চাকরির নামে টাকা ? বিজেপির অন্দরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড়

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : এবার বিজেপির অন্দরেই প্রকাশ্যে এল চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বিজেপি কর্মী এবং তাঁর ভাইকে মারধরের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বেনাচিতি সংলগ্ন অন্নপূর্ণা নগর এলাকায়। অভিযোগকারী ওমপ্রকাশ প্রসাদের দাবি, লোকসভা নির্বাচনের পর দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় তাঁকে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই এলাকার বিজেপি নেত্রী মৌসুমী দত্তের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তবে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চাকরি মেলেনি, এমনকি টাকা ফেরতও পাননি বলে দাবি তাঁর। ওমপ্রকাশ প্রসাদের অভিযোগ, একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনও সদুত্তর না পাওয়ায় শনিবার তিনি টাকা ফেরতের দাবি নিয়ে মৌসুমী দত্তের কাছে যান। প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই সময় মৌসুমী দত্তের উপস্থিতিতেই তাঁর কয়েকজন অনুগামী ওমপ্রকাশ প্রসাদের উপর চড়াও হন এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। দাদাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ওমপ্রকাশের ভাইয়ের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে হইচই পড়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর জখম অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধু চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগই নয়, প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে টাকা লেনদেনের বিষয়টি, মারধরের অভিযোগ এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দোষী ঘোষণা করেনি।
চাকরির নামে টাকা ? বিজেপির অন্দরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড়
চাকরির প্রতিশ্রুতিতে ৫০ হাজার ! টাকা ফেরত চাইতেই হামলার অভিযোগ

এদিকে অভিযোগের মুখে থাকা বিজেপি নেত্রী মৌসুমী দত্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দলের মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বক্তব্য রাখবেন। অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “বিজেপির কোনও কর্মী বা নেতা-নেত্রী এই ধরনের কাজ করতে পারেন না। বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বিরোধীদের তরফে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।” এই বক্তব্যের পর ঘটনাটি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। একদিকে অভিযোগকারী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমন অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা শুধু আইনগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া—এই দুই বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। তদন্তে প্রাপ্ত নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত আদালতেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা। এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সত্যিই কি চাকরির নামে টাকা লেনদেন হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কার কাছে গিয়েছে? অভিযোগ অনুযায়ী হামলায় কারা জড়িত ছিল? ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল?—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। তাই এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। কারণ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে এলে যেমন নির্দোষ ব্যক্তির সম্মান রক্ষা হবে, তেমনই দোষীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। অভিযোগকারী পরিবারের দাবি কতটা সত্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী তথ্য উঠে আসে এবং এই ঘটনায় নতুন কোনও মোড় আসে কি না—সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram