মানবসেবায় অনন্য উদ্যোগ, বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে ‘দুর্গাপুর সনাতনী’

তিনি আরও জানান, সারা বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে সংগঠনটি। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে ‘দুর্গাপুর সনাতনী’। তাঁদের মতে, সমাজের উন্নয়নে শুধুমাত্র প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকেও এগিয়ে আসতে হবে। অরবিন্দ তিওয়ারি আরও বলেন, “মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের জন্য কাজ করলে সেই কাজের প্রকৃত মূল্য মানুষের আশীর্বাদেই পাওয়া যায়। আগামী দিনেও আরও বড় পরিসরে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।” শিবিরে আসা বহু উপভোক্তাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানো কিংবা নতুন চশমা তৈরি করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবির তাঁদের কাছে অত্যন্ত উপকারী। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই দেয় না, বরং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে যখন অন্যের পাশে দাঁড়ান, তখনই প্রকৃত অর্থে সামাজিক ঐক্য গড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে চোখের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের ব্যবহার, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং বয়সজনিত নানা কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবির সাধারণ মানুষকে সেই সচেতনতার বার্তাও পৌঁছে দেয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করল ‘দুর্গাপুর সনাতনী’, সমাজের প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতা থাকলে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোই যে প্রকৃত ধর্ম, সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরল এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আরও বৃহত্তর পরিসরে সমাজসেবামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ‘দুর্গাপুর সনাতনী’। মানুষের সেবাই যে সর্বোচ্চ ধর্ম—সেই আদর্শকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে এগিয়ে চলেছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
