বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভে সামিল হলেন সিএনজি গ্যাস বহনকারী ঠিকা শ্রমিকেরা। দীর্ঘদিন ধরে কম মজুরি, অতিরিক্ত সময় কাজ এবং একাধিক দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার আন্দোলনের পথে নামেন তাঁরা। শ্রমিকদের দাবি, বহুবার কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং দাবি তুললেই হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকেই কর্মবিরতি পালন করে একত্রিত হন সিএনজি গ্যাস বহনকারী ঠিকা শ্রমিকরা। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়ে তাঁরা বেতন বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশের উন্নতি এবং শ্রমিকদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের দাবি তোলেন। আন্দোলনস্থলে শ্রমিকদের বক্তব্য ছিল একটাই—ন্যায্য পারিশ্রমিক ছাড়া আর কাজ নয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে তাঁদের কাজের সময় আট ঘণ্টা হলেও বাস্তবে প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও সেই অনুযায়ী কোনও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। নো ওয়ার্ক, নো পে ভিত্তিতে প্রতিদিন মাত্র ৫০০ টাকা মজুরি পান তাঁরা। বর্তমান বাজারদরে এই মজুরিতে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি শ্রমিকদের। আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, কাজের চাপ দিন দিন বাড়লেও মজুরি দীর্ঘদিন ধরে একই রয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং যাতায়াতের খরচও অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ তাঁদের পারিশ্রমিকে কোনও পরিবর্তন আসেনি। ফলে পরিবার চালাতে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি, একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বেতন বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টাও করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আশ্বাস ছাড়া বাস্তবে কোনও সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন তাঁরা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, দাবি তুললেই তাঁদের ভয় দেখানো হয়। এমনকি চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। শ্রমিকদের বক্তব্য, তাঁরা কোনও অযৌক্তিক দাবি করছেন না। শুধু ন্যায্য মজুরি এবং মানবিক কর্মপরিবেশ চাইছেন।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি
৫০০ টাকায় ১২ ঘণ্টা কাজের অভিযোগ, কর্মবিরতিতে CNG শ্রমিকরা

এদিন আন্দোলনরত শ্রমিকদের একাংশ আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার পিছনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তৃণমূলের কিছু স্থানীয় নেতার যোগসাজস রয়েছে। তাঁদের দাবি, এই কারণেই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করে আসছেন। সিএনজি গ্যাস পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকেও প্রাপ্য সম্মান ও পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ তাঁদের পরিশ্রমের উপর নির্ভর করেই প্রতিদিন পরিষেবা সচল থাকে। তাই তাঁদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় শুধুমাত্র কর্মবিরতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, গণঅবস্থান কিংবা বৃহত্তর শ্রমিক আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। এই কর্মবিরতির ফলে সিএনজি গ্যাস পরিবহনের কাজে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হবে কি না, সেটাও এখন দেখার বিষয়। শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কোনও পরিষেবা ব্যাহত করা নয়। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে উপযুক্ত বেতন, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশও মনে করছেন, দীর্ঘ সময় কাজ করেও যদি শ্রমিকরা ন্যায্য পারিশ্রমিক না পান, তবে সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। আবার অন্যদিকে, শিল্প ও পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। সব মিলিয়ে, বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে সিএনজি গ্যাস বহনকারী ঠিকা শ্রমিকদের এই কর্মবিরতি নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে, কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কোনও ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের যে হুঁশিয়ারি শ্রমিকরা দিয়েছেন, তা আগামী দিনে পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram