গ্রেপ্তার বোলপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বোলপুর : রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও কর্মী। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ভোট-পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক অশান্তিতে মদত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বোলপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই ওসমান শেখ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বোলপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় ধৃতকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা বোলপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ওসমান শেখের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগ ছিল, এলাকায় তোলাবাজি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে মদত দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার মতো নানা কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম উঠে আসে। একাধিক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বোলপুর থানার পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন অভিযোগকারীর বক্তব্য, স্থানীয় তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওসমান শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বোলপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ধৃতকে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর তাঁকে বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত চত্বরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। আদালত চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। ওসমান শেখের গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চর্চা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও এবার পুলিশ তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকদের একাংশ এই গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করছেন। যদিও সেই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
গ্রেপ্তার বোলপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই !
ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে বোলপুরে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। ধৃতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও তদন্তকারী মহলের ইঙ্গিত। স্থানীয়দের দাবি, ভোট-পরবর্তী সময়ে এলাকায় একাধিকবার উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনাগুলির তদন্তে বিভিন্ন নাম উঠে আসে। পুলিশ সেই সমস্ত অভিযোগ যাচাই করে ধাপে ধাপে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ওসমান শেখের গ্রেপ্তার সেই তদন্তেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পুরনো অভিযোগগুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এই গ্রেপ্তারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। শুক্রবার আদালতে ধৃতকে পেশ করার সময় আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়। বহু মানুষ এই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আদালত চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারি চালায় পুলিশ। তবে এই মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আদালতে অভিযোগের বিচার এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে। এখনও পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষা করাই যথাযথ। এদিকে, এই গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, আইন আইনের পথেই চলুক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই গ্রেপ্তার নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না, ওসমান শেখের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয় এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ কী হয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোলপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেও মত প্রশাসনিক মহলের।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram