স্থানীয়দের কাজের দাবিতে কারখানার গেটে BMS-র বিক্ষোভ !

তাঁদের অভিযোগ, অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব এবং পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কৃতি এখনও বহাল রয়েছে। ফলে স্থানীয় যোগ্য যুবকদের পরিবর্তে বহিরাগতদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে। যদিও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল, তবুও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। কারখানার প্রবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। এদিকে আন্দোলন প্রসঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তারা ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের বিষয়ে সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিজেপির দুর্গাপুর পশ্চিম ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তেজনারায়ণ পান্ডে বলেন, স্থানীয়দের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বহিরাগতদের কাজে নিয়োগ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, বহু পরিবার শিল্পের জন্য জমি দিয়েছে, অথচ সেই পরিবারগুলির সদস্যরাই আজ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। শিল্প যেমন প্রয়োজন, তেমনই সেই শিল্পের সুফলও এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে শিল্প ও সমাজ—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বিএমএস নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাসে তারা আর বিশ্বাসী নয়। লিখিত প্রতিশ্রুতি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্থানীয়দের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার রূপরেখা প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না। প্রয়োজনে লাগাতার অবস্থান, বৃহত্তর গণআন্দোলন কিংবা প্রশাসনিক দফতরে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মতো কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে। তাঁদের দাবি, শিল্প ও উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত স্থানীয় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। কিন্তু যদি সেই উন্নয়নের সুফল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেই না পৌঁছায়, তাহলে শিল্পায়নের উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। আন্দোলনের জেরে শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান, স্থানীয়দের অধিকার এবং শিল্প সংস্থাগুলির সামাজিক দায়বদ্ধতা—এই তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এখন দেখার, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন স্থানীয়দের দাবি নিয়ে কী পদক্ষেপ করে এবং আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থার কোনও সমাধান বেরিয়ে আসে কি না।
