This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : বিদ্যুৎ চুরি রুখতে আরও কড়া অবস্থান নিল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ। চন্ডীদাস বাজার এলাকায় অভিযানের পর এবার ডিএসপি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে দুর্গাপুরের ব্যস্ত আশিস মার্কেট এলাকা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকায় শুরু হয় বিশেষ অভিযান। অভিযোগ, আশিস মার্কেট সংলগ্ন বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি তার টেনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই বেআইনি সংযোগ বা ‘হুকিং’-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরির ফলে একদিকে যেমন রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল, অন্যদিকে তেমনি তৈরি হচ্ছিল বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। বৃহস্পতিবার ডিএসপি-র আধিকারিকরা TA বিল্ডিং-এর কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় পৌঁছান। এরপর শুরু হয় অবৈধ সংযোগ চিহ্নিতকরণের কাজ। একের পর এক দোকানে গিয়ে দেখা হয় কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে বেশ কয়েকটি দোকানে বৈধ মিটার বা অনুমোদিত সংযোগের পরিবর্তে সরাসরি বিদ্যুতের লাইন থেকে তার টেনে সংযোগ নেওয়ার প্রমাণ মেলে বলে জানা যায়। এরপরই সংশ্লিষ্ট সমস্ত ‘হুকিং’ লাইন কেটে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালীন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন বহু অস্থায়ী দোকানদার। অনেকের দোকানে ফ্রিজ, লাইট, ফ্যান বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যবসায়িক কাজেও প্রভাব পড়ে। বেশ কয়েকজন দোকানদার দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এইভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিলেন এবং বিকল্প কোনও ব্যবস্থা তাঁদের কাছে ছিল না। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, অবৈধ সংযোগ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইন মেনেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। ডিএসপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। বিশেষ করে অস্থায়ী বাজার ও রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে অবৈধ সংযোগের সংখ্যা বাড়ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এর আগে চন্ডীদাস এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালিয়ে বহু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আশিস মার্কেট এলাকায় অভিযান চালানো হল।
দুর্গাপুরে অস্থায়ী দোকানে বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে কড়া অভিযান, একের পর এক ‘হুকিং’ লাইন কাটল DSP
কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ চুরি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় হুমকি। খোলা তার, অনিয়ন্ত্রিত সংযোগ এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কারণে যে কোনও সময় বড় ধরনের শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে জনবহুল বাজার এলাকায় এমন ঝুঁকি আরও বেশি। তাই মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ধরনের অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অভিযান চলাকালীন ডিএসপি-র আধিকারিকরা দোকানদারদের সতর্কও করেন। তাঁরা জানান, ভবিষ্যতে কেউ যদি পুনরায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে শুধুমাত্র সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই নয়, প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ চুরি সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়ের করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিযানের খবরে আশেপাশের অন্যান্য বাজার এলাকাতেও সতর্কতা দেখা গিয়েছে। অনেকেই নিজের সংযোগ বৈধ কি না তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চান, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই সংযোগ নিতে হবে। অবৈধ পথে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনও সুযোগ নেই। ডিএসপি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই অভিযান একদিনের জন্য নয়। আগামী দিনেও দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে নজরদারি ও অভিযান চলবে। কোথাও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দুর্গাপুরে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখা এবং বিদ্যুতের অপচয় ও চুরি রোধ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। সব মিলিয়ে আশিস মার্কেটে বৃহস্পতিবারের এই অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিল— বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে কোনও রকম আপস নয়। নিয়ম মেনে বৈধ সংযোগ ব্যবহার করতেই হবে, অন্যথায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। ডিএসপি-র এই ধারাবাহিক অভিযানে আগামী দিনে আরও বহু এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।