মহরম উপলক্ষে সমন্বয় বৈঠক কোকওভেন থানায়

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : আসন্ন মহরম উৎসবকে সামনে রেখে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার উদ্যোগে মহরম কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হল বুধবার। উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সমস্ত ধর্মীয় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসিপি সুবীর রায়, কোকওভেন থানার ওসি-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক এবং এলাকার বিভিন্ন মহরম কমিটির সদস্য ও প্রতিনিধিরা। বৈঠকে মহরম উপলক্ষে আয়োজিত তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম পরিচালনা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, মহরমের শোভাযাত্রা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কোনও ধরনের অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করা যাবে না। ঐতিহ্যের নামে কোনওরকম ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ বা আইনবিরোধী কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়। প্রশাসনের মতে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখেই উৎসব পালন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। বৈঠকে শব্দদূষণের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। পুলিশ আধিকারিকরা জানান, উচ্চ শব্দে ডিজে বাজানো বা নির্ধারিত সীমার বাইরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে শব্দ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। মহরম কমিটির সদস্যদের সেই বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে গুজব ও ভুয়ো খবর সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উৎসব চলাকালীন কোনও ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য, উস্কানিমূলক পোস্ট বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে হবে। কোনও খবর যাচাই না করে তা প্রচার বা শেয়ার না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়। কারণ অনেক সময় সামান্য গুজব থেকেও বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে।
মহরম উপলক্ষে সমন্বয় বৈঠক কোকওভেন থানায়
অস্ত্র ও উচ্চ শব্দে ডিজে নিষিদ্ধ, মহরম ঘিরে পুলিশের নির্দেশ

বৈঠকে উপস্থিত মহরম কমিটির সদস্যরাও প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তারা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে মহরম পালন করা হবে এবং পুলিশ প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলা হবে। শোভাযাত্রার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা হয়। যাতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা যায়, সেই লক্ষ্যে কমিটির পক্ষ থেকেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়। ACP সুবীর রায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, মহরম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং এটি যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসন সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন মহরম কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শোভাযাত্রার রুট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। সকলেই সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “উৎসবের সময় বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর রাখা হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি এবং মোবাইল পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।” ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান এসিপি। মহরমের শোভাযাত্রার সময় যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অযথা সমস্যা না হয়, সেই বিষয়েও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট রুট ধরে শোভাযাত্রা পরিচালনা এবং প্রয়োজনে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহরম উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন থানার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। শুধু শোভাযাত্রার দিন নয়, উৎসবের আগে এবং পরেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হবে। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রস্তুত থাকবে। মহরম কমিটির সদস্যরা বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করার জন্য তারা বদ্ধপরিকর। সমাজের সবস্তরের মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেন তারা। সব মিলিয়ে আসন্ন মহরমকে ঘিরে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার এই সমন্বয় বৈঠক শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল। প্রশাসন ও মহরম কমিটির যৌথ উদ্যোগে উৎসব যাতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই চলছে প্রস্তুতি। এখন সকলের নজর উৎসবের দিনগুলির দিকে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে মহরম পালনের প্রত্যাশা করছে প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram