This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
নদিয়া : তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী তথা জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক ও পারিবারিক বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিতে প্রায় তিন কেজি সোনার গয়না উদ্ধারের দাবি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে বিধাননগর উত্তর থানার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নদিয়ার করিমপুর ও তেহট্ট এলাকায় অভিযান চালায়। এই অভিযানে স্থানীয় থানার পুলিশও সহযোগিতা করে। রাতভর চলা তল্লাশি অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ প্রায় তিন কেজি। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার মূল্য চার কোটিরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শুধু সোনার গয়নাই নয়, তল্লাশি চলাকালীন বেশ কিছু জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্ত নথি এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই অভিযানের সঙ্গে একটি বড় আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের যোগসূত্র রয়েছে। অভিযোগ, তদন্তে উঠে আসা কিছু তথ্যের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও সূত্র মারফত পাওয়া তথ্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারম্যান Sabyasachi Dutta-র নাম। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তাঁকে সঙ্গে নিয়েই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থেকেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে বলে দাবি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল সব্যসাচী দত্তকে। সেই মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারীদের হাতে বেশ কিছু তথ্য আসে বলে সূত্রের খবর। তদন্তে উঠে আসা সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নদিয়ায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং তোলাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগে একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই তল্লাশি অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের দাবি সামনে আসার পর বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তোলাবাজি মামলার তদন্তে বড় সাফল্য ? তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে কোটি টাকার সোনা উদ্ধার
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। কারণ, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির উৎস, মালিকানা এবং আইনগত বৈধতা— সমস্ত বিষয়ই তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ব্যক্তির বাড়ি থেকে মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হওয়া মানেই তা অবৈধ সম্পত্তি— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বৈধ নথি, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং আয়ের উৎস যাচাই করেই তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়ার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে সরব হতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা উচিত এবং তদন্তকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে হবে। অন্যদিকে শাসক দলের একাংশের বক্তব্য, তদন্ত চলতে দেওয়া হোক, তার পরেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। তল্লাশি অভিযানের সময় তদন্তকারীরা বাড়ির বিভিন্ন অংশে দীর্ঘক্ষণ ধরে অনুসন্ধান চালান বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া গয়নার পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা জমির নথিগুলিও এখন খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই নথিগুলির সঙ্গে কোনও আর্থিক অনিয়ম বা সম্পত্তি সংক্রান্ত অসঙ্গতি জড়িয়ে রয়েছে কি না, সেটাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রয়োজনে এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ এবং মালিকানা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে এই ঘটনা ইতিমধ্যেই অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে একটি চলমান তোলাবাজি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, উদ্ধার হওয়া সোনার প্রকৃত উৎস কী, বাজেয়াপ্ত নথিগুলির সঙ্গে কোনও আর্থিক অনিয়মের যোগ রয়েছে কি না, এবং এই ঘটনায় আরও কারও নাম সামনে আসে কি না— সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ। তবে আপাতত নদিয়ার এই তল্লাশি অভিযান এবং বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনাই রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।