দুর্গাপুর চন্ডীদাসে DSP-র অভিযান, ৫০টি দোকানের হুকিং লাইন বিচ্ছিন্ন !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : চণ্ডীদাস বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে একাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বা ডিএসপি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৫০টি দোকানের বেআইনি হুকিং সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। হঠাৎ এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে বাজার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চণ্ডীদাস বাজারের একটি বড় অংশে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ ছিল, বেশ কিছু দোকান বৈধ সংযোগ না নিয়ে সরাসরি বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে হুকিং করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে তেমনই বিদ্যুৎ দপ্তরের আর্থিক ক্ষতিরও আশঙ্কা ছিল। বহুদিন ধরে বিষয়টি নজরে রাখার পর অবশেষে মঙ্গলবার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসপি কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা বাজার এলাকায় পৌঁছে যান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও। এরপর শুরু হয় অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করার কাজ। অভিযান চলাকালীন একাধিক দোকানে বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগের প্রমাণ মেলে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। দেখা যায়, অনেক দোকান থেকেই সরাসরি বৈদ্যুতিক খুঁটি বা মূল লাইন থেকে হুকিং করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সংযোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধও বটে। পরিস্থিতি যাচাই করার পরই কর্তৃপক্ষ একে একে সমস্ত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করে। প্রায় ৫০টি দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ফলে বাজারের একটি বড় অংশ হঠাৎ করেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। অনেক ব্যবসায়ী প্রথমে বিষয়টি বুঝে উঠতে না পারলেও পরে জানা যায়, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিএসপি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিদ্যুৎ চুরি শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করে। হুকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে জনবহুল বাজার এলাকায় এই ধরনের সংযোগ যে কোনও সময় বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সেই কারণেই নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বৈধ সংযোগ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করা আইনবিরোধী। দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বৈধ সংযোগ নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। তবুও অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি বলেই এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
দুর্গাপুর চন্ডীদাসে DSP-র অভিযান, ৫০টি দোকানের হুকিং লাইন বিচ্ছিন্ন !
হুকিং করে বিদ্যুৎ ব্যবহার ! দুর্গাপুরে ৫০ দোকানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন

অভিযানের সময় বাজার এলাকায় কিছুটা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কাজে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ফ্রিজ, কুলার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা কম্পিউটারের উপর নির্ভর করে ব্যবসা চালান, তাঁরা সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইন মেনে বৈধ সংযোগ গ্রহণ করলে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না। বরং নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়ার জন্য বৈধ সংযোগই একমাত্র উপায়। ব্যবসায়ীদের দ্রুত বৈধ সংযোগ নেওয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, বিদ্যুৎ চুরির ফলে সাধারণ গ্রাহকদের উপরও প্রভাব পড়ে। অনেক সময় লো-ভোল্টেজ, ট্রিপিং বা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের মতো সমস্যা দেখা দেয়। ফলে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁরা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান চালালে ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ অনেকটাই কমে আসবে। বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ হুকিং শুধু রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, এটি গোটা বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অতিরিক্ত লোডের কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যেতে পারে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই এই ধরনের বেআইনি সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ডিএসপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনও একদিনের অভিযান নয়। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। যেখানে যেখানে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও বড় আকারে অভিযান চালানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, কেউ যেন বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার না করেন এবং কোথাও এমন ঘটনা চোখে পড়লে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। কারণ বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা শুধুমাত্র প্রশাসনের কাজ নয়, নিরাপদ সমাজ গড়ার স্বার্থে এটি সকলের যৌথ দায়িত্ব। বর্তমানে চণ্ডীদাস বাজার এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে প্রশাসন আর কোনও রকম আপস করতে রাজি নয়। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ। দুর্গাপুরের চণ্ডীদাস বাজারে মঙ্গলবারের এই অভিযান তাই শুধু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাই নয়, বরং বিদ্যুৎ চুরি রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram