মহানন্দা ক্যান্সার হাসপাতালে অত্যাধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক যন্ত্র প্রদান LIC-র

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : ক্যান্সার চিকিৎসাকে আরও উন্নত, নির্ভুল এবং রোগীকেন্দ্রিক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি। কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলআইসি-র ইস্টার্ন জোনাল অফিস তাদের ‘গোল্ডেন জুবিলি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে দুর্গাপুরের মহানন্দা ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালকে অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল ল্যাপারোস্কোপিক যন্ত্র প্রদান করল। এই উদ্যোগকে ঘিরে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। দুর্গাপুরের মহানন্দা ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলআইসি-র ইস্টার্ন জোনের জোনাল ম্যানেজার আশুতোষ কুমার। তাঁর হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই আধুনিক যন্ত্রের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রিজিওনাল ম্যানেজার (মার্কেটিং) অভিজিৎ ঘোষ দস্তিদার, আসানসোল ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার বিবেকানন্দ ঘোষ-সহ সংস্থার একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যাধুনিক এই সার্জিক্যাল ল্যাপারোস্কোপিক যন্ত্র ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই যন্ত্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার আরও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোগীর শরীরে বড় ধরনের কাটা-ছেঁড়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে, যার ফলে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর কষ্টও তুলনামূলকভাবে অনেক কম হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাপারোস্কোপিক প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হল এটি ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা স্বল্প আঘাতের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে শরীরে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা যায়। ফলে রক্তক্ষরণের পরিমাণ কম হয়, সংক্রমণের ঝুঁকিও কম থাকে এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ পান। ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তি রোগীর শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মহানন্দা ক্যান্সার হাসপাতালে অত্যাধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক যন্ত্র প্রদান LIC-র
রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসায় জোর, মহানন্দা ক্যান্সার হাসপাতালে LIC-এর বিশেষ উদ্যোগ

মহানন্দা ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালের সিইও দীপক দাস জানান, এলআইসি-র এই উদ্যোগ শুধু একটি যন্ত্র প্রদান নয়, বরং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এক বড় সহায়তা। তাঁর কথায়, “এই প্রযুক্তি আমাদের হাসপাতালের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। রোগীদের উন্নত মানের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই যন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” হাসপাতালের বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কুণাল চৌধুরীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ল্যাপারোস্কোপিক প্রযুক্তি রোগীদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর। এর ফলে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর হাসপাতালে থাকার সময়ও কমে আসবে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এলআইসি-র জোনাল ম্যানেজার আশুতোষ কুমার বলেন, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এলআইসি সবসময় কাজ করে চলেছে। কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে এলআইসি অংশগ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলআইসি-র ‘গোল্ডেন জুবিলি ফাউন্ডেশন’ দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে এই ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা পৌঁছেছে। দুর্গাপুরের মহানন্দা ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালকে আধুনিক যন্ত্র প্রদানও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, বর্তমানে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জেলা এবং শিল্পাঞ্চল এলাকায় যদি এই ধরনের উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম উপলব্ধ হয়, তাহলে রোগীদের বড় শহরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় স্তরেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া সম্ভব হবে। এলাকার বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দুর্গাপুর এবং সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষ মহানন্দা ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। সেখানে এই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন রোগীদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, এলআইসি-র উদ্যোগে মহানন্দা ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালে অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল ল্যাপারোস্কোপিক যন্ত্রের সংযোজন শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ক্যান্সার চিকিৎসাকে আরও উন্নত, নিরাপদ এবং রোগীকেন্দ্রিক করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক রোগী উপকৃত হবেন এবং অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram