‘জনকল্যাণ শিবির’- র দ্বিতীয় দিনেও ভিড় ভোর থেকে

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘জনকল্যাণ শিবির’। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আসানসোল শিল্পাঞ্চল এলাকাতেও শুরু হয়েছে বিশেষ এই পরিষেবা শিবির। শিবিরের দ্বিতীয় দিনে আসানসোল গ্রামের শিব মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ক্যাম্পে সকাল থেকেই দেখা যায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র জমা দিতে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বহু মানুষকে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই জনকল্যাণ শিবিরকে ঘিরে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল হতেই বিভিন্ন বয়সের মানুষ শিবির প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন। কেউ এসেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কেউ আবার বার্ধক্য ভাতা, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধু কিংবা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য। নির্ধারিত নথিপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষ শিবিরে হাজির হন এবং সরকারি কর্মীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র পূরণ ও জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেন। আসানসোল গ্রামের শিব মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই ক্যাম্পে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। ভোরের পর থেকেই একে একে মানুষজন শিবিরে এসে উপস্থিত হতে শুরু করেন। বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে মহিলাদের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই যাতে দ্রুত পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্য নিয়ে শিবিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা বিভিন্ন কাউন্টার তৈরি করে পরিষেবা প্রদান করেন। তবে শিবির চলাকালীন কিছুটা সমস্যারও সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বার্ধক্য ভাতার আবেদনপত্র নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে পৌঁছনোর কারণে সাময়িক অসুবিধা দেখা দেয়। আবেদনপত্র হাতে না পাওয়ায় বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় আবেদনকারীদের। ফলে অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। যদিও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবেদন গ্রহণের কাজ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ভিড় সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
‘জনকল্যাণ শিবির’- র দ্বিতীয় দিনেও ভিড় ভোর থেকে
তীব্র গরম উপেক্ষা করে জনকল্যাণ শিবিরে ভিড়, পরিষেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা

এদিকে দিনের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকলেও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার আশায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায় বহু মানুষকে। তীব্র গরমকে উপেক্ষা করেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের এই আগ্রহ এবং ধৈর্য শিবিরের গুরুত্বকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরে বেড়ানোর পরিবর্তে এক জায়গায় একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাঁদের অনেকটাই সুবিধা হয়েছে। এতে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনি বিভিন্ন দপ্তরে আলাদা আলাদা করে যাওয়ার ঝক্কিও কমেছে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগকে তাঁরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। অনেকেই জানান, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগও মিলছে এই শিবিরের মাধ্যমে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলে তা কীভাবে পূরণ করতে হবে, সে বিষয়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা সহযোগিতা করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি প্রকল্প নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে বলেও মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। শিবির ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিবির চত্বরে মানুষের ভিড় ছিল অব্যাহত। কেউ আবেদন জমা দিতে ব্যস্ত, কেউ আবার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন। অনেক প্রবীণ নাগরিক এবং মহিলাদেরও সরকারি কর্মীদের সহযোগিতায় পরিষেবা গ্রহণ করতে দেখা যায়। পুরো ব্যবস্থাপনা যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালান। স্থানীয়দের মতে, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক এলাকার মানুষ এই ধরনের শিবিরের মাধ্যমে অনেক বেশি উপকৃত হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও মত তাঁদের। জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে এলাকায় এক ধরনের উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকেই। সরকারি পরিষেবা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন তথ্য জানার ক্ষেত্রেও এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন দিনব্যাপী জনকল্যাণ শিবিরের দ্বিতীয় দিনে আসানসোল গ্রামের শিব মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেল। সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিলেও মানুষের আগ্রহ ও উৎসাহে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। বরং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বহু মানুষ। আগামী দিনেও এই ধরনের জনমুখী কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram