তৃণমূলের কার্যালয়ে উদ্ধার মেয়েদের মাথার চুল ও কনডম !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
নদিয়া : রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তপ্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত, ঠিক সেই আবহেই নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত ফুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নানা অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। সম্প্রতি কার্যালয় ভাঙচুরের সময় ভিতর থেকে একাধিক আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধারের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় টিনের কাঠামো দিয়ে তৈরি ওই দলীয় কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের বেলাতেই সেখানে বেশি আনাগোনা দেখা যেত। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং গুঞ্জন ছিল বলে দাবি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। বিজেপির অভিযোগ, সম্প্রতি ওই কার্যালয় ভাঙচুরের সময় ভিতর থেকে বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের দাবি, কার্যালয়ের ভিতরে মেয়েদের মাথার চুল, একাধিক কন্ডমের প্যাকেট এবং আরও কিছু সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে, যা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, টিনের তৈরি ওই কার্যালয়ের ভিতরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও ছিল। সেখানে একটি এসি মেশিন, সোফা সেট, রান্নার সরঞ্জাম-সহ বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ রাখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়টিকেও কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, ওই দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই রাতের বেলায় মদ্যপান, উচ্চস্বরে গান-বাজনা এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তৃণমূলের কার্যালয়ে উদ্ধার মেয়েদের মাথার চুল ও কনডম !
ফুলিয়ায় তৃণমূলের কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক, আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ

যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী ডোনা বসাক অভিযোগ করেন, এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ পরিচালনার ক্ষেত্র হিসেবেও ওই কার্যালয় ব্যবহার করা হত। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ নাকি দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ডোনা বসাক আরও দাবি করেন, শুধু একটি নয়, এলাকায় অবৈধভাবে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের মোট তিনটি দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি বা অনুমোদিত জমির বাইরে বেআইনিভাবে এই কার্যালয়গুলি গড়ে তোলা হয়েছিল। তাই সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর থেকেই ফুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদিকে বিজেপির তরফে একাধিক অভিযোগ সামনে আনা হলেও অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতির মাঝেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘটনাগুলি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতে প্রশাসনিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ফুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার দিকেই।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram