This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : রাজ্যজুড়ে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে জনকল্যাণ শিবির। আর প্রথম দিনেই দুর্গাপুরে দেখা গেল সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও বিপুল অংশগ্রহণ। সিটি সেন্টারের ভগৎ সিং ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত এই শিবিরকে ঘিরে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আবহ। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়ে কার্যত উপচে পড়ে শিবির চত্বর। সরকারি বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করতে দেখা যায় বহু মানুষকে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। কেউ অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদনপত্র পূরণ করতে ব্যস্ত, আবার কেউ প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে আসেন। একইসঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন বহু উপভোক্তা। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই শিবিরের মূল লক্ষ্য। শিবিরে আসা মানুষের সুবিধার্থে একাধিক সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়। সেখানে প্রশাসনিক কর্মী, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা সারাদিন ধরে আবেদনকারীদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে ব্যস্ত ছিলেন। কোন প্রকল্পের জন্য কী কী নথি প্রয়োজন, কীভাবে আবেদন করতে হবে কিংবা কোথায় যোগাযোগ করতে হবে— সেই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনও মানুষকে বারবার সরকারি দফতরে ঘুরতে না হয় এবং এক জায়গাতেই একাধিক প্রকল্পের সুবিধার জন্য আবেদন করা যায়, সেই বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিবিরে উপস্থিত বহু বাসিন্দা জানান, আগে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য একাধিক দফতরে যেতে হত। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হত। কিন্তু এই ধরনের শিবিরে এসে একসঙ্গে সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার সুযোগও মিলছে। ফলে সাধারণ মানুষের অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে।
প্রথম দিনেই সফল জনকল্যাণ শিবির, দুর্গাপুরে মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো
শুধুমাত্র সরকারি পরিষেবা প্রদান নয়, পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরা হয় এই জনকল্যাণ শিবির থেকে। উপস্থিত মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ। গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব এবং সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তার বার্তা দেওয়া হয়। অনেকেই উৎসাহের সঙ্গে সেই চারা গাছ গ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতে তা রোপণ করার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, শিবিরে সাংস্কৃতিক আবহও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাউল শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থিত মানুষদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সরকারি পরিষেবার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতির এই পরিবেশনা শিবিরে এক অন্য মাত্রা যোগ করে। বাউল গানের সুরে অনেকেই কিছুটা সময় কাটান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রশংসাও করেন। সারাদিন ধরে চলা এই শিবিরে মানুষের ভিড় সামলাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় একাধিক ব্যবস্থা। পানীয় জল, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা বোর্ডের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। প্রবীণ নাগরিক ও মহিলাদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শিবিরে অংশ নিতে আসা একাধিক বাসিন্দা জানান, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা যাতে দ্রুত তাঁদের কাছে পৌঁছে যায়, সেই আশাতেই তাঁরা এখানে এসেছেন। অনেকেই বলেন, এক ছাদের তলায় বিভিন্ন প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী উদ্যোগ। এর ফলে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনি হয়রানিও অনেক কমছে। প্রথম দিনেই দুর্গাপুরের এই বিপুল সাড়া প্রমাণ করে যে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যথেষ্ট বেশি। প্রশাসনের তরফে আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলিতেও এই জনকল্যাণ শিবিরে মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং অধিক সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এসে উপকৃত হবেন। সব মিলিয়ে, জনকল্যাণ শিবিরের প্রথম দিনেই দুর্গাপুরে যে চিত্র সামনে এল, তা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা। সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং উৎসাহই প্রমাণ করছে, সরকারি পরিষেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে। আর সেই কারণেই প্রথম দিনের এই সাফল্য আগামী দিনের জন্য আরও আশাবাদী করে তুলেছে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ উভয়কেই।