পাট্টা বিতর্কে তৃণমূল কর্মীকে ডিমের অমলেট খাওয়াল বিজেপি !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে এই ঘটনায় প্রতিবাদের ধরন ছিল একেবারেই অভিনব। ডিম ছোড়া বা বিক্ষোভ মিছিল নয়, বরং এক তৃণমূল কর্মীকে প্রতীকীভাবে ডিমের অমলেট খাইয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের মহানন্দা কলোনি, বীরভানপুর-সহ ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে কয়েক বছর আগে সরকারি জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগের তির বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর শিপল সাহা এবং তাঁর অনুগামীদের দিকে। অভিযোগ, সরকারি জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহু মানুষ নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে টাকা জোগাড় করে জমা দিয়েছিলেন। কারও কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে আরও বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। অনেকেই আশা করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে জমিতে বসবাস করছেন, সেই জমির বৈধ পাট্টা হাতে পেলে ভবিষ্যতে আর কোনও অনিশ্চয়তা থাকবে না। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কোনও বাসিন্দাই সরকারি জমির পাট্টা পাননি। শুধু তাই নয়, যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে ক্ষোভ জমতে শুরু করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে। বহুবার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ। শনিবার রাতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহানন্দা কলোনির এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে জমির পাট্টা সংক্রান্ত একাধিক পূরণ করা ফর্ম উদ্ধার হয়। সেই ফর্মগুলিতে বহু আবেদনকারীর নাম এবং বিভিন্ন তথ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ সেখানে জড়ো হন।
পাট্টা বিতর্কে তৃণমূল কর্মীকে ডিমের অমলেট খাওয়াল বিজেপি !
পাট্টা না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা, তৃণমূল কর্মীকে অমলেট খাইয়ে বিক্ষোভ দুর্গাপুরে

পরে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হাতে পাট্টার ফর্ম এবং ঝাঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিও তোলেন তাঁরা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও এই বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধার নাম করে সাধারণ মানুষের আবেগ এবং অসহায়তার সুযোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। এদিকে, অভিযোগের মুখে বিদায়ী কাউন্সিলর শিপল সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে ক্ষুব্ধ মানুষজন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সুকুমার চক্রবর্তীর কাছে জবাব চাইতে যান। এরপরই ঘটে অভিনব প্রতিবাদের ঘটনা। সুকুমার চক্রবর্তীকে একটি চেয়ারে বসিয়ে তাঁকে প্রতীকীভাবে ডিমের অমলেট খাওয়ানো হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, এটি কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং তাঁদের ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। ডিম ছোড়া বা হিংসাত্মক কোনও পথ বেছে না নিয়ে ব্যতিক্রমী উপায়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছেন। এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এই ধরনের অভিনব প্রতিবাদকে সমর্থন জানালেও, আবার অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। অন্যদিকে, তৃণমূল কর্মী সুকুমার চক্রবর্তীর বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত উত্তর দিতে পারবেন একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিদায়ী কাউন্সিলর শিপল সাহা। তিনি নিজে এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলেই দাবি করেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এত বছর ধরে অপেক্ষা করার পরও যখন কোনও সমাধান মেলেনি, তখন বাধ্য হয়েই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়তে শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ এবং সেই অভিযোগকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীকে ডিমের অমলেট খাইয়ে অভিনব প্রতিবাদের ঘটনা দুর্গাপুর জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের দিকে। অভিযোগের সত্যতা কতটা, আদৌ কোনও তদন্ত হবে কিনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন কিনা, সেই উত্তরই খুঁজছেন এলাকার বাসিন্দারা।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram