হাওড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি- লুট !

আক্রান্ত ব্যবসায়ী চন্দন কাঁড়ারের দাবি, দুষ্কৃতীরা যে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ২০০ গ্রাম সোনার গয়না, ৭ থেকে ৮ কেজি রুপোর সামগ্রী এবং নগদ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ছিল। সব মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুট হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে আতঙ্কিত এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁকরাইল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। কোথা থেকে দুষ্কৃতীরা এসেছিল, কীভাবে তারা পালিয়ে গেল এবং এর পিছনে কোনও বড় অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের গতিবিধি এবং ব্যবহৃত মোটরবাইকের নম্বর শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেই আশাবাদী তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে। তাঁদের অভিযোগ, বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরি, ছিনতাই ও অপরাধমূলক ঘটনার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই রাতের সময় অতিরিক্ত পুলিশি টহল এবং বাজার এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশেরও অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। কারণ দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই ব্যবসায়ীর গতিবিধি সম্পর্কে অবগত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এর পিছনে কোনও পরিচিত ব্যক্তি বা সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কিনা, সেই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। শনিবার রাতের এই দুঃসাহসিক ছিনতাই এবং গুলিচালনার ঘটনায় গোটা রানিহাটি পুরাতন বাজার এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। কবে ধরা পড়বে অভিযুক্তরা এবং লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো ও নগদ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা, সেটাই দেখার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
