উচ্ছেদের দাবিকে ঘিরে মামড়া বাজারে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মামড়া বাজার এলাকায় উচ্ছেদের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে বাজার এলাকার একাংশ ব্যবসায়ী বাজার সংলগ্ন একটি মন্দিরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই প্রতিবাদ বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার মামড়া বাজার এলাকায় পুকুর ভরাট এবং জলাশয়ের একাংশ দখল করে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে বিজেপির একাংশ কর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিযোগ ছিল, সরকারি জমি এবং জলাশয়ের অংশ দখল করে কিছু নির্মাণ কাজ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অভিযোগ উঠেছে, ওই বিক্ষোভ চলাকালীন সমীর গড়াই নামে এক ব্যক্তি কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় এসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁর দাবি ছিল, এডিডিএ-র জমির উপর গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ দোকান দ্রুত উচ্ছেদ করা হোক। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার সকালে সেই দাবির বিরোধিতায় সরব হন বাজার এলাকার বহু ব্যবসায়ী। তাঁরা বাজার সংলগ্ন মন্দিরের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, যদি সমীর গড়াই এবং বাপি সরকারের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ বা মতবিরোধ থেকে থাকে, তাহলে তার প্রভাব সাধারণ ব্যবসায়ীদের উপর পড়া উচিত নয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে সাধারণ মানুষের জীবিকা নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই বাজার এলাকায় ছোট ছোট ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন। বহু পরিবারের একমাত্র রোজগারের উৎস এই দোকানপাট। ফলে হঠাৎ করে উচ্ছেদের দাবি ওঠায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উচ্ছেদের দাবিকে ঘিরে মামড়া বাজারে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ !
মামড়া বাজারে উচ্ছেদের দাবিকে ঘিরে চাঞ্চল্য, প্রতিবাদে সরব ব্যবসায়ীরা

এক বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। এই দোকানের আয় দিয়েই পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি। হঠাৎ করে উচ্ছেদের দাবি তুলে আমাদের জীবিকা বিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” আরও এক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, “যদি কোথাও কোনও আইনি সমস্যা থাকে, তাহলে প্রশাসন তদন্ত করুক। কিন্তু কোনও ব্যক্তিগত বিবাদের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বলির পাঁঠা করা উচিত নয়। আমরা চাই, প্রশাসন সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।” বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারকে কেন্দ্র করেই এলাকার বহু মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে। বাজারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতা, মাছ ব্যবসায়ী, চায়ের দোকানদার, মুদি ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। হঠাৎ করে উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়া হলে বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে। প্রতিবাদকারীরা আরও বলেন, কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের মতামত শোনা উচিত। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ, তাঁদের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং বাস্তব পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, শুক্রবার বিজেপির একাংশ কর্মীদের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে পুকুর ভরাট এবং জলাশয়ের একাংশ দখল করে অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি জমি এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এডিডিএ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। একদিকে অবৈধ নির্মাণ ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, অন্যদিকে বহু মানুষের জীবিকা রক্ষার দাবি— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ একদিকে পরিবেশ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষার প্রশ্ন রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বহু মানুষের রুজি-রুটির বিষয়। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমানে মামড়া বাজার এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। তাঁরা চাইছেন প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতির সমাধান করুক এবং কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁদের বক্তব্যও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করুক। উচ্ছেদের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী মহল এবং রাজনৈতিক মহলের।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram