
পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুলিশ শুধু নির্দিষ্ট কোনও অংশ নয়, গোটা বাড়িতেই তল্লাশি চালিয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ যা যা জানতে চেয়েছে, সেই বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আইন মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের কাজ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের মতে, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামনে আনা হচ্ছে। যে মামলাকে ঘিরে এই তল্লাশি, তা মূলত পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকার জমি সংক্রান্ত প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। তাঁর সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের শেষ অবস্থান কালীঘাটের ওই বাড়ির আশপাশে পাওয়া গিয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। যদিও সুমিত রায়কে ওই বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর জল্পনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনাকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কোনও মামলার তদন্তে যদি কোনও ব্যক্তির অবস্থান বা সংশ্লিষ্টতার সূত্র পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই পারে। তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকে। জমি প্রতারণা এবং আর্থিক তছরুপ মামলায় আরও নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কিনা, কিংবা তদন্তের পরবর্তী ধাপে আর কাদের নাম উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পুলিশের এই তল্লাশি নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনার প্রকৃত তাৎপর্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী দাঁড়ায়, তা সময়ই বলবে। ফিলহাল গোটা ঘটনার উপর নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের। আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।
