উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ !

এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা বহু মানুষ আর্থিকভাবে দুর্বল। তাঁরা চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য সম্পূর্ণভাবে সরকারি ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। সেই জায়গায় যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। ঘটনার জেরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। এরপর নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। এই ঘটনায় তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের একাংশও। সিপিএম নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা উচিত নয়। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জেমুয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মজুত ছিল এবং কীভাবে তা রোগীর হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সবসময় প্রাণঘাতী না হলেও তার কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যেতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা রোগীর শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় নিয়মিত ওষুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ঘটনার পর এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর আগে কতজন রোগী এই ধরনের ওষুধ পেয়েছেন এবং তাঁরা তা সেবনও করেছেন কি না। সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই দাবিও তুলেছেন তাঁরা। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেমুয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু একটি এলাকার নয়, বরং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, তদন্তে ঠিক কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
