অবৈধ বালি পাচারের অভিযোগে ধৃত ১ !

অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে অবৈধ কয়লা, বালি, পাথর এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই কাঁকসা এলাকায়ও তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শেখ হিরণ মন্ডলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মঙ্গলবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, কোথায় কোথায় বালি মজুত করা হত এবং কতদিন ধরে এই ব্যবসা চলছিল, সেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা। পুলিশের একাংশের মতে, অবৈধ বালি ব্যবসা সাধারণত এককভাবে পরিচালিত হয় না। এর সঙ্গে পরিবহণ, মজুত, সরবরাহ এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। ফলে শেখ হিরণ মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই তাঁর আর্থিক লেনদেন, ব্যবহৃত যানবাহন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। এছাড়াও কোথায় কোথায় অবৈধভাবে বালি মজুত করা হয়েছে, সেই সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পরিবেশবিদদের মতে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে নদী থেকে বালি উত্তোলন শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এর দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাবও অত্যন্ত গুরুতর। অতিরিক্ত বালি উত্তোলনের ফলে নদীর প্রবাহ, তীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা এবং জলধারণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এদিকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কাঁকসা এবং সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অবৈধ বালি ব্যবসার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আবার অনেকে দাবি করছেন, শুধুমাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না, গোটা চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ধৃত শেখ হিরণ মন্ডলকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁর হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে কি না, তা আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপর নির্ভর করবে। সব মিলিয়ে, অজয় নদ থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগে এই গ্রেপ্তারি কাঁকসা এলাকায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই চক্রের আরও বিস্তৃত তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। এখন দেখার, এই তদন্তের জেরে অবৈধ বালি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আরও কতজনের নাম সামনে আসে এবং প্রশাসন কতটা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
