This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : সিটি সেন্টারের অন্যতম পরিচিত রেস্তোরাঁ ‘ঠেক’কে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, সরকারি জমি দখল করে ওই রেস্তোরাঁর বিস্তার ঘটানো হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারি জমি উদ্ধার এবং অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। সেই আবহেই সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নিজেরাই রেস্তোরাঁর বিভিন্ন কাঠামো সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সরকারি জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও অভিযোগ খতিয়ে দেখা শুরু করে প্রশাসন। শহরের একাধিক জায়গায় সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা বা অন্যান্য নির্মাণ গড়ে ওঠার অভিযোগ সামনে আসে। সেই তালিকায় সিটি সেন্টারের এই রেস্তোরাঁর নামও উঠে আসে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। মঙ্গলবার সকালে সিটি সেন্টার এলাকায় দেখা যায়, রেস্তোরাঁর বাইরের বেশ কিছু অস্থায়ী ও সম্প্রসারিত অংশ খুলে ফেলা হয়েছে। শ্রমিকদের দিয়ে দ্রুত গতিতে সরিয়ে নেওয়া হয় বিভিন্ন কাঠামো। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই বিষয়টিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির প্রথম বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং দখলমুক্ত করার বিষয়ে একাধিকবার কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলা ও শহরে সরকারি জমির উপর বেআইনি নির্মাণের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেই তালিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন, “সরকারি জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা, ক্লাব, হোটেল, হাসপাতালসহ নানা ধরনের নির্মাণ হয়েছে। নতুন সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের অবৈধ দখল কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। যেখানেই অবৈধ নির্মাণ পাওয়া যাবে, আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে পার পাবে না। সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পত্তি, তা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।”
সরকারি জমি ছাড়ল ‘ঠেক’, শুরু উচ্ছেদের কাউন্টডাউন ?
বিধায়কের এই মন্তব্যের পর শহরজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ক্লাব, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং অন্যান্য স্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে আগামী দিনে আরও বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। অন্যদিকে, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না মিললেও স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই স্বেচ্ছায় কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশের মতে, সরকারি জমি দখল করে কোনও নির্মাণই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো উচিত। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সব ক্ষেত্রেই সমান নীতি প্রয়োগ করা দরকার, যাতে কোনও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি জমি সংক্রান্ত বিরোধ বহু পুরনো সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, লিজ, ব্যবহার অধিকার এবং দখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রেই নথিপত্র যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রশাসনকে এগোতে হবে। তবে আপাতত সিটি সেন্টারের ‘ঠেক’ রেস্তোরাঁ ঘিরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—সরকারি জমি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান এখন অনেক বেশি কঠোর। আর সেই বার্তাই পৌঁছে গিয়েছে দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। আগামী দিনে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর শহরবাসীর। দুর্গাপুরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। সরকারি জমি উদ্ধারের অভিযানে এটি কি শুধুই শুরু, নাকি আরও বড় পদক্ষেপের পূর্বাভাস—সেই উত্তর দেবে আগামী সময়।