প্রাক্তন TMC কাউন্সিলর লাভলী রায়ের অফিসে সাদা থান-সরকারি বালতি !

এছাড়াও বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্প ‘মিশন নির্মল বাংলা’র সামগ্রী কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কীভাবে এল। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সামগ্রী যদি কোনও দলীয় অফিসে মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়, তাহলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর লাভলি রায়ের গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেখে খবর দেওয়া হয় নিউ টাউনশিপ থানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। পুলিশ কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন সামগ্রী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কার্যালয়ের ভিতরে কী কী ছিল, সেগুলির উৎস কী এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বেআইনি কাজের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এলাকাবাসী, রাজনৈতিক কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া বলে দাবি করা সামগ্রীগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা। বিজেপি যেখানে এই ঘটনাকে দুর্নীতি ও সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা বেড়েছে। ফলে এই ঘটনাও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দায়িত্ব এখন তদন্তকারী সংস্থার উপরই রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মামরা বাজার এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে চর্চা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চান, তেমনই রাজনৈতিক মহলও এখন পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে। এখন দেখার বিষয়, উদ্ধার হওয়া বলে দাবি করা সামগ্রীগুলির উৎস কী, সেগুলি সেখানে কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে। দুর্গাপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আগামী দিনেও বজায় থাকবে, তা বলাই যায়।
