অবৈধ পাথর খাদান চালানোর অভিযোগ, ধৃত ৪ !

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের প্রত্যেকেরই সালানপুর ব্লকের জিতপুর-উত্তরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ পাথর খাদান রয়েছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই খাদানগুলি থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। অথচ সরকারি অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্রের কোনও নথি ছিল না বলেই অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় বহুদিন ধরেই অবৈধভাবে পাহাড় ও পাথুরে অঞ্চল কেটে পাথর তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে বহুবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ পাথর খাদান শুধুমাত্র সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এর ফলে পরিবেশের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে মাটির গঠন নষ্ট হয়, ভূগর্ভস্থ জলের স্তরে প্রভাব পড়ে এবং আশপাশের পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভূমিধস বা দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি খাদান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ও স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, শুধুমাত্র খাদানের মালিকদের গ্রেফতার করলেই তদন্ত শেষ হবে না। এই ব্যবসা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, কোথায় পাথর সরবরাহ করা হত, কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিল এবং প্রশাসনের কোনও স্তরে যোগসাজশ ছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ আদালতের কাছে ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাবে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের দাবি, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের আরও সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালানপুর এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বেআইনি খাদান ব্যবসার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হোক। বর্তমানে ধৃত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ পাথর খাদান চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের। রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মধ্যে সালানপুরের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
