প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথের গোডাউনে সরকারি ত্রাণসামগ্রী, বিক্ষোভে স্থানীয়রা

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও এলাকায় মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন পুলিশ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতির দিকে না যায়, সেদিকে নজর রাখা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। গোডাউনের ভিতরে ঠিক কত পরিমাণ সরকারি সামগ্রী ছিল এবং সেগুলি কীভাবে সেখানে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন ধরে এই সামগ্রী সেখানে রাখা থাকলেও প্রশাসনের নজরে বিষয়টি কেন আসেনি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা এবং গোডাউনে মজুত সামগ্রীর প্রকৃত উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, সরকারি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কোনও ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ এই সমস্ত সামগ্রী সাধারণ মানুষের করের টাকায় কেনা হয় এবং বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই সংরক্ষিত থাকে। সেই সামগ্রী যদি প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে না পৌঁছে অন্য কোথাও মজুত থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। বর্তমানে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উখরা ও সংলগ্ন খনিাঞ্চল এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গোডাউন থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, সংরক্ষণের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে খনিাঞ্চলের মানুষের মনে— সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী কীভাবে এবং কেন একটি রাজনৈতিক নেতার অফিস-সংলগ্ন গোডাউনে পৌঁছাল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। আর সেই উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত উখরার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
