ডাম্পারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু চালকের !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক ডাম্পার চালকের। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই ডাম্পারে আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে কেবিনে আটকে পড়েন চালক। শেষ পর্যন্ত জীবন্ত দগ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের দিক থেকে ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশ্যে কয়লা বোঝাই একটি ডাম্পার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে যাচ্ছিল। ভোরের দিকে ডাম্পারটি সালানপুর থানার অন্তর্গত মেলাকলা মোড় সংলগ্ন ধানবাদগামী রাস্তায় পৌঁছায়। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ডাম্পারটি। এরপর সামনে থাকা একটি ভারী মালবোঝাই ট্রেলারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ডাম্পারের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কেবিনের ভেতরে থাকা যন্ত্রাংশ এবং জ্বালানি থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন, ডাম্পারের সামনের অংশে ভয়ঙ্কর আগুন জ্বলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় চালক কেবিনের ভেতরেই আটকে পড়েছিলেন। ধাক্কার জেরে কেবিন এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে তিনি বেরিয়ে আসতে পারেননি। স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেবিনের কাছে যেতে পারেননি। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন গোটা কেবিন গ্রাস করে নেয়। ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছে যায় সালানপুর থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সালানপুর থানার পুলিশ। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আগুন নিভে যাওয়ার পর কেবিনের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় চালকের দগ্ধ দেহ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উদ্ধারকারীরা।
ডাম্পারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু চালকের !
ট্রেলারে ধাক্কা, আগুনে পুড়ে মৃত্যু ডাম্পার চালকের

দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ডাম্পার এবং ট্রেলার রাস্তার একাংশ আটকে রাখায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরানোর কাজ শুরু করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত চালকের পরিচয় এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ডাম্পারের নথিপত্র এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টাও শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত গতি অথবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে ডাম্পারটি ট্রেলারের পিছনে ধাক্কা মারল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় রাস্তার পরিস্থিতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা চালকের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জাতীয় সড়কের এই অংশে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাত এবং ভোরের দিকে ভারী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় ঝুঁকিও বাড়ে। ফলে এই এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন তাঁরা। এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যাঁরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁদের অনেকেই এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। আগুনে জ্বলতে থাকা ডাম্পার এবং চালককে বাঁচাতে না পারার অসহায় দৃশ্য অনেককেই নাড়িয়ে দিয়েছে। দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়েছিল। তবে আগুনের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি ছিল। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। সেই কারণেই কেবিনে আটকে থাকা চালককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সালানপুর থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য জাতীয় সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ। আরও একবার জাতীয় সড়কে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা কেড়ে নিল একটি প্রাণ। ভোরের আলো ফোটার আগেই আগুনের গ্রাসে প্রাণ হারালেন এক ডাম্পার চালক। এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিল জাতীয় সড়কে ভারী যানবাহনের নিরাপত্তা ও চালকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram