রেলের ধাক্কায় মৃত্যু প্রৌঢ়ের !

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রেলগেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় কিছু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে গেটের নিচ দিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখা যায়। বহুবার সচেতনতার প্রচার চালানো হলেও অনেকেই তা মানতে চান না। এই ধরনের প্রবণতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মত তাঁদের। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “আমরা সবাই ওনাকে বারণ করছিলাম। বলছিলাম, ট্রেন চলে যাক তারপর পার হবেন। কিন্তু উনি কারও কথা শুনলেন না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্ঘটনাটা ঘটে গেল।” আরও এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “গেট বন্ধ মানেই ট্রেন আসছে। তবুও অনেকেই শর্টকাট নেওয়ার চেষ্টা করেন। আজ একজনের প্রাণ গেল। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।” প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রেল পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চেলিডাঙা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, গৌতম সরকারকে প্রায়ই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত। মানসিক সমস্যায় ভুগলেও তিনি সকলের পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও ভেঙে পড়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে রেললাইন পারাপার সংক্রান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি। রেল কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করে জানিয়ে থাকে, রেলগেট বন্ধ থাকলে কোনও অবস্থাতেই গেটের নিচ দিয়ে বা বেআইনিভাবে রেললাইন পার হওয়া উচিত নয়। কারণ ট্রেনের গতি এবং দূরত্ব অনেক সময় সঠিকভাবে অনুমান করা যায় না। ফলে মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেনের গতি যত দ্রুতই হোক না কেন, অনেক সময় মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুঝতেই পারেন না যে ট্রেন কতটা কাছে চলে এসেছে। সেই কারণেই রেলগেট বন্ধ থাকলে অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নিরাপদ নয়। বুধবারের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সেই বার্তাই সামনে এনে দিল। কয়েক মুহূর্তের তাড়াহুড়ো, অসাবধানতা কিংবা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কখনও কখনও একটি পরিবারের কাছ থেকে তাদের প্রিয় মানুষটিকে চিরদিনের জন্য কেড়ে নিতে পারে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ। তবে আসানসোল কোর্ট এলাকার এই দুর্ঘটনা এলাকাবাসীর মনে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। একই সঙ্গে রেললাইন পারাপারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হওয়ার বার্তাও দিয়ে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনা।
