রেলের ধাক্কায় মৃত্যু প্রৌঢ়ের !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : কোর্ট এলাকার রেল ফটকের কাছে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অসাবধানতাবশত বন্ধ রেলগেটের নিচ দিয়ে রেললাইন পারাপারের চেষ্টা করতে গিয়ে দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়ের। বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহুবার সতর্ক করা হলেও ওই ব্যক্তি কারও কথা শোনেননি। শেষ পর্যন্ত সেই অসাবধানতাই প্রাণ কেড়ে নিল তাঁর। মৃত ব্যক্তির নাম গৌতম সরকার। বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। তিনি আসানসোলের চেলিডাঙা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এলাকার অনেকেই তাঁকে চিনতেন এবং প্রায়শই একা ঘোরাফেরা করতে দেখতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার দিনের ব্যস্ত সময়ে আসানসোল কোর্ট সংলগ্ন রেল ফটকে রেলগেট নামানো ছিল। ট্রেন চলাচলের জন্য গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং উভয় দিকের যানবাহন ও পথচারীরা অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় গৌতম সরকার সেখানে পৌঁছন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেট বন্ধ দেখে অপেক্ষা না করে তিনি রেললাইন পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উপস্থিত কয়েকজন মানুষ তাঁকে বারণ করেন। তাঁরা জানান, ট্রেন আসতে পারে এবং গেট খোলা না পর্যন্ত অপেক্ষা করাই নিরাপদ। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই তিনি বন্ধ ফটকের নিচ দিয়ে রেললাইনের দিকে এগিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গৌতম সরকার যখন রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই ওই লাইন দিয়ে দ্রুতগতিতে একটি ট্রেন চলে আসে। ট্রেনটি এত দ্রুত গতিতে আসছিল যে শেষ মুহূর্তে আর সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন ওই প্রৌঢ়। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। দুর্ঘটনা দেখেই চিৎকার শুরু করেন উপস্থিত মানুষজন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। কেউ কেউ উদ্ধারকার্যের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেল পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা এবং শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
রেলের ধাক্কায় মৃত্যু প্রৌঢ়ের !
বন্ধ রেলগেট পেরোতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু প্রৌঢ়ের

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রেলগেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় কিছু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে গেটের নিচ দিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখা যায়। বহুবার সচেতনতার প্রচার চালানো হলেও অনেকেই তা মানতে চান না। এই ধরনের প্রবণতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মত তাঁদের। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “আমরা সবাই ওনাকে বারণ করছিলাম। বলছিলাম, ট্রেন চলে যাক তারপর পার হবেন। কিন্তু উনি কারও কথা শুনলেন না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্ঘটনাটা ঘটে গেল।” আরও এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “গেট বন্ধ মানেই ট্রেন আসছে। তবুও অনেকেই শর্টকাট নেওয়ার চেষ্টা করেন। আজ একজনের প্রাণ গেল। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।” প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রেল পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চেলিডাঙা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, গৌতম সরকারকে প্রায়ই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত। মানসিক সমস্যায় ভুগলেও তিনি সকলের পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও ভেঙে পড়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে রেললাইন পারাপার সংক্রান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি। রেল কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করে জানিয়ে থাকে, রেলগেট বন্ধ থাকলে কোনও অবস্থাতেই গেটের নিচ দিয়ে বা বেআইনিভাবে রেললাইন পার হওয়া উচিত নয়। কারণ ট্রেনের গতি এবং দূরত্ব অনেক সময় সঠিকভাবে অনুমান করা যায় না। ফলে মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেনের গতি যত দ্রুতই হোক না কেন, অনেক সময় মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুঝতেই পারেন না যে ট্রেন কতটা কাছে চলে এসেছে। সেই কারণেই রেলগেট বন্ধ থাকলে অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নিরাপদ নয়। বুধবারের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সেই বার্তাই সামনে এনে দিল। কয়েক মুহূর্তের তাড়াহুড়ো, অসাবধানতা কিংবা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কখনও কখনও একটি পরিবারের কাছ থেকে তাদের প্রিয় মানুষটিকে চিরদিনের জন্য কেড়ে নিতে পারে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ। তবে আসানসোল কোর্ট এলাকার এই দুর্ঘটনা এলাকাবাসীর মনে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। একই সঙ্গে রেললাইন পারাপারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হওয়ার বার্তাও দিয়ে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনা।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram