তৃণমূল নেতার বাড়ির পেছনে জ্বলছিল ভোটার কার্ড-আধার জেরক্স ! চাঞ্চল্য, উঠছে একাধিক প্রশ্ন

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কাঁকসা : পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকের তিলকচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দোমড়া এলাকায় বুধবার সকালে এক রহস্যজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এক তৃণমূল নেতার বাড়ির পিছনে আগুনে পুড়তে দেখা যায় ভোটার কার্ড, আধার কার্ডের জেরক্স, জব কার্ড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে এলাকায়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালবেলায় কয়েকজন গ্রামবাসী উত্তম রুইদাসের বাড়ির পিছনের অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ আগুন বলে মনে হলেও, ধোঁয়ার উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁরা চমকে যান। অভিযোগ, সেখানে বেশ কিছু কাগজপত্রে আগুন জ্বলছিল এবং সেই পোড়া কাগজের স্তূপে দেখা যায় ভোটার কার্ডের প্রতিলিপি, আধার কার্ডের জেরক্স, জব কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের ফটোকপি, এমনকি জমিজমা সংক্রান্ত কিছু নথির অংশবিশেষও। স্থানীয়দের দাবি, আগুনে পুড়ে যাওয়া কাগজপত্রের মধ্যে এমন বহু নথি ছিল, যা সাধারণত সরকারি প্রকল্পের আবেদন, পরিচয়পত্র যাচাই অথবা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এত গুরুত্বপূর্ণ নথি এক জায়গায় কীভাবে এল এবং কেনই বা সেগুলি পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল? ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবাদে তাঁরা উত্তম রুইদাসের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং বাড়ি ঘেরাও করে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, যদি কোনও কারণে এই নথিগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি কেন সেগুলি পোড়ানোর প্রয়োজন পড়ল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। এদিকে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ কাঁকসা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
তৃণমূল নেতার বাড়ির পেছনে জ্বলছিল ভোটার কার্ড-আধার জেরক্স ! চাঞ্চল্য, উঠছে একাধিক প্রশ্ন
পোড়া আধার-ভোটার কার্ড ঘিরে রহস্য, সরব বিজেপি

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু পোড়া এবং আংশিক পোড়া নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কোন নথি কার, সেগুলি আদৌ বৈধ নথির প্রতিলিপি কি না এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রে থাকা উত্তম রুইদাসকে অবশ্য ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগও হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে আরও জল্পনা তৈরি হয়েছে এলাকায়। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা তাপস দাস অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল সরকারের সময় উত্তম রুইদাস এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দাবি, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, শ্রমিকদের কাছ থেকে কাটমানি আদায় এবং বিভিন্ন নির্মীয়মাণ কারখানার মালিকদের কাছ থেকেও অর্থ তোলার অভিযোগ বহুদিন ধরেই রয়েছে। তাপস দাসের বক্তব্য, “আজ যে নথিপত্র পুড়তে দেখা গিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই নথিগুলি কার, কেন এখানে রাখা হয়েছিল এবং কেন সেগুলি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।” তবে বিজেপির এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই তদন্তের দিকে নজর রয়েছে সকলের। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদন, আবাস যোজনা, শ্রমিক নথিভুক্তিকরণ, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাজ কিংবা জমিজমার নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জব কার্ড এবং পাসবইয়ের কপির প্রয়োজন হয়। তাই এত পরিমাণ নথির প্রতিলিপি একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে, নথিগুলি আদৌ কার কার ছিল এবং সেগুলি কোনও সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কি না। পাশাপাশি এগুলি সেখানে কীভাবে এল এবং আগুন লাগানো হয়েছিল নাকি অন্য কোনও কারণে আগুন ধরে যায়, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে কাঁকসার দোমড়া এলাকায় চাঞ্চল্য তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের নজর এখন পুলিশের তদন্তের দিকে। কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, এটি শুধুই নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও রহস্য। বর্তমানে সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কাঁকসা থানার পুলিশ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram