প্রতিশ্রুতি পূরণ, মহিলাদের জন্য 'ফ্রি' বাস রাইড !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। সোমবার, ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প কার্যকর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি শিল্পনগরী দুর্গাপুরেও দেখা গেল মহিলা যাত্রীদের ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। কর্মজীবী মহিলা, ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক— সকলের কাছেই এই উদ্যোগকে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাস টার্মিনাসে এই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোরুই এবং দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহকুমাশাসক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, পরিবহণ দফতরের আধিকারিক, বাস পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার বা অন্যান্য কাজে যাতায়াতকারী মহিলারা এই পরিষেবার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। পরিষেবার প্রথম দিনেই বাস টার্মিনাসে উৎসবের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। বহু মহিলা যাত্রী নতুন ব্যবস্থার সুযোগ নিতে সকাল থেকেই বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হন। বাসে ওঠার সময় তাঁদের হাতে প্রতীকীভাবে বিনামূল্যের টিকিট তুলে দেন জনপ্রতিনিধিরা। অনেক যাত্রী এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও তুলতেও দেখা যায়। পরিবহণ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকার স্বীকৃত যে কোনও বৈধ পরিচয়পত্র দেখালেই মহিলা যাত্রীরা বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। বাসের কন্ডাক্টররা যাত্রীদের ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ প্রদান করছেন। অর্থাৎ টিকিট দেওয়া হলেও তার জন্য কোনও অর্থ দিতে হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের যাতায়াতের হিসাব সংরক্ষিত থাকবে, তেমনই সরকারি ভর্তুকির সঠিক পরিসংখ্যানও রাখা সম্ভব হবে।
প্রতিশ্রুতি পূরণ, মহিলাদের জন্য 'ফ্রি' বাস রাইড !
সরকারি বাসে মহিলাদের ফ্রি যাত্রা শুরু

দুর্গাপুরের একাধিক মহিলা যাত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এই ধরনের একটি পরিষেবার প্রত্যাশা করছিলেন। প্রতিদিন অফিস, স্কুল, কলেজ কিংবা ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে পরিবহণ খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হত। এখন সেই খরচ অনেকটাই কমে যাবে। একজন কর্মজীবী মহিলা জানান, প্রতিদিন অফিসে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার জন্য মাসে কয়েকশো টাকা বাসভাড়ায় খরচ হত। নতুন পরিষেবা চালু হওয়ায় সেই অর্থ পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা যাবে। একইভাবে কলেজ পড়ুয়া এবং স্কুলের উচ্চ শ্রেণির ছাত্রীদের একাংশও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের কাছে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। কারণ প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয়ের চাপ কমলে পরিবারগুলির সামগ্রিক আর্থিক সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক মহিলা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহিত হবেন বলেও মত বিশেষজ্ঞদের। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, নির্বাচনের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর। মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একটি উন্নত সমাজ গড়তে হলে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি এবং এই প্রকল্প সেই লক্ষ্যপূরণে সহায়ক হবে। অন্যদিকে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোরুই জানান, পরিষেবাটি যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, তার জন্য প্রশাসন এবং পরিবহণ কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মহিলাদের যাতায়াত খরচ কমলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবার এবং সমাজের উপর। তবে পরিষেবা চালুর প্রথম দিনেই কিছু মহিলা যাত্রী বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিনামূল্যে পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ভিড় সামাল দিতে অতিরিক্ত বাস চালানো প্রয়োজন। বিশেষ করে অফিস টাইম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়ে আরও বেশি বাসের দাবি উঠেছে। পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোথাও অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যা দেখা দিলে রুটভিত্তিক বাস সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালুর মধ্য দিয়ে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই উদ্যোগ মহিলাদের আর্থিক সুরাহা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং স্বনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ। এখন দেখার, আগামী দিনে এই প্রকল্প কতটা জনপ্রিয়তা পায় এবং রাজ্যের কত লক্ষ মহিলা এর সুবিধা গ্রহণ করেন।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram