This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ফের পথ দুর্ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। আহত হলেন এক বাইক আরোহী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় দুর্গাপুরের মন্ডলের এয়ারপোর্ট মোড় এলাকায়। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কের উপর ব্যারিকেট বসানো এবং অপরিকল্পিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। এদিনের ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি বাইক নিয়ে আসানসোলের দিক থেকে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন এক যুবক। জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছিল বাইকটি। অভিযোগ, মন্ডলের এয়ারপোর্ট মোড়ের কাছে আচমকাই সামনে থাকা একটি ভারী ট্রাক হঠাৎ ব্রেক কষে দেয়। সেই সময় পিছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা বাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে বাইক আরোহী রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে যান। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় বাইক আরোহীকে উদ্ধার করে প্রথমে রাস্তার ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কের উপর যেভাবে ব্যারিকেট বসিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে এয়ারপোর্ট মোড়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় হঠাৎ করে গাড়ি থামানো বা গতি কমানোর কারণে পিছন থেকে আসা ছোট গাড়ি ও বাইক প্রায়ই সমস্যায় পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায়শই জাতীয় সড়কের উপর হঠাৎ ব্যারিকেট বসিয়ে গাড়ি আটকানো হয়। ফলে দ্রুতগতিতে চলা যানবাহনের চালকেরা অনেক সময় পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বিপদের মুখে পড়ছেন। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবুও প্রশাসনের তরফে স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই জাতীয় সড়কের উপর ভিড় জমতে শুরু করে। বিক্ষুব্ধ মানুষ ট্রাফিক পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁরা দাবি তোলেন, অবিলম্বে এই এলাকায় নিরাপদ ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় সড়কের উপর যত্রতত্র ব্যারিকেট বসানো বন্ধ করারও দাবি জানান তাঁরা।
ট্রাকের আচমকা ব্রেক, রক্তাক্ত বাইক আরোহী
বিক্ষোভকারীদের একাংশের বক্তব্য, “জাতীয় সড়কে গাড়ি স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত গতিতে চলে। সেখানে যদি আচমকা ব্যারিকেট বসিয়ে গাড়ি থামানো হয়, তাহলে দুর্ঘটনা তো ঘটবেই। বহুবার বলার পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ আবার একজন গুরুতর আহত হলেন।” এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, এয়ারপোর্ট মোড় এলাকায় প্রতিদিনই যানজট ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের নামে অনেক সময় এমনভাবে গাড়ি আটকানো হয়, যাতে উল্টে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাঁদের মতে, জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ঘটনার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ এবং ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ট্রাফিক পুলিশের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই ব্যারিকেট ব্যবহার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ট্রাক চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ আবার দাবি করেছেন, জাতীয় সড়কের ওই অংশে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই। কোথায় ব্যারিকেট থাকবে বা কোথায় গাড়ির গতি কমাতে হবে, তা স্পষ্টভাবে বোঝানো হয় না। ফলে বাইক আরোহী এবং ছোট গাড়ির চালকেরা বেশি সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় উপস্থিত মানুষজনের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোখা যায়, তার জন্যও নতুন করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে উঠে এল জাতীয় সড়কে নিরাপত্তার প্রশ্ন। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তাই শুধুমাত্র অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। সব মিলিয়ে এয়ারপোর্ট মোড়ের এই পথদুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিল জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এখন দেখার প্রশাসন এই ঘটনার পর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।