নিরাপত্তায় কাটছাঁট অনুব্রতর

তবে এতদিন পর্যন্ত অন্তত পুলিশি নিরাপত্তা চোখে পড়ছিল। বাড়ির আশপাশে মোতায়েন থাকতেন পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু এবার সেই নিরাপত্তাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। আবার বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর প্রভাবশালী নেতাদের গুরুত্বও কমতে শুরু করেছে। অনুব্রত মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির অত্যন্ত আলোচিত মুখ। তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য ও রাজনৈতিক কার্যকলাপ বহুবার শিরোনামে এসেছে। সমর্থকদের কাছে তিনি যেমন ছিলেন শক্তিশালী সংগঠক, তেমনই বিরোধীদের কাছে ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্র। ফলে তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কোনো নেতার নিরাপত্তা কমানো বা তুলে নেওয়া শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, অনেক সময় তা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়। অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। কেন নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল, নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। অনুব্রত মণ্ডল নিজেও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলিও বদলাচ্ছে। তাঁদের মতে, একসময় যাঁদের ঘিরে কড়া নিরাপত্তা থাকত, এখন তাঁদের প্রভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে। যদিও তৃণমূলের একাংশ এখনও দাবি করছে, অনুব্রত মণ্ডল সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং রয়েছেন। নিরাপত্তা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা না দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে, বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনা নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। একসময় যাঁর বাড়ির সামনে ছিল কড়া পুলিশি পাহারা, রাজনৈতিক কর্মীদের ভিড় এবং ক্ষমতার প্রভাব— আজ সেই ছবিতে বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। রাজ্যের পালাবদলের পর রাজনৈতিক বাস্তবতাও যে দ্রুত বদলাচ্ছে, অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ঘিরে সেই বার্তাই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
