সীমান্ত সুরক্ষায় শুরু কাঁটাতার, খুশি সীমান্তবাসী

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram

নদিয়া : দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সীমান্ত সুরক্ষার। বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে চাষাবাদ থেকে শুরু করে সাধারণ জীবনযাপন—সব ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো সীমান্তবাসীদের। অভিযোগ, পূর্বতন রাজ্য সরকারকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার বদলাতে শুরু করেছে সীমান্তের ছবি। নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে জমি অধিগ্রহণ ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ। আর তাতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষজন। ঘটনাটি নদিয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুলে চাঁদপুর গ্রামকে ঘিরে। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরেই কাঁটাতারহীন অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়েই চলত অনুপ্রবেশ, চোরা চালান এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ। ফলে সীমান্ত লাগোয়া এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হতো। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহু বছর ধরে তাঁরা সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ কাঁটাতারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কারণ, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশ এবং এপারে ভারতীয় ভূখণ্ড হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বেগ ছিল গ্রামবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন অংশে কাঁটাতার না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হতো। অনেক ক্ষেত্রেই জমিতে চাষ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হতে হতো তাঁদের। কখনও গবাদি পশু চুরি, কখনও রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশ—বিভিন্ন সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সীমান্তবাসীরা। পাশাপাশি অসামাজিক কাজকর্ম ও চোরা চালানের ঘটনাও বাড়ছিল বলে অভিযোগ। তবে বর্তমানে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ইতিমধ্যেই সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে এতদিন কাঁটাতারের বেড়া ছিল না, সেখানে ধাপে ধাপে শুরু হয়েছে নতুন করে সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ।

সীমান্ত সুরক্ষায় শুরু কাঁটাতার, খুশি সীমান্তবাসী
চোরা চালান রুখতে সীমান্তে কড়া ব্যবস্থা

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, কুলে চাঁদপুর গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার নদী সংলগ্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও কিছু জমি অধিগ্রহণের কাজ বাকি রয়েছে, তাই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে কাজ শুরু হওয়াতেই খুশির হাওয়া বইছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষিত হলে সাধারণ মানুষের জীবন অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। বিশেষ করে কৃষকদের নিরাপত্তা বাড়বে। রাতের আতঙ্ক কমবে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ও চোরা চালানের মতো বেআইনি কার্যকলাপেও রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের এই দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে ছিলেন। সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় বসবাস করলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না। অনেক সময় রাতের বেলায় অচেনা লোকজনের যাতায়াত নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হতো। শিশু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ ছিল পরিবারগুলির মধ্যে। এখন সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হওয়ায় অনেকেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষিত হলে শুধু নিরাপত্তাই বাড়বে না, এলাকার সামাজিক পরিবেশও অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। দীর্ঘদিনের দাবিপূরণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী একাংশ মানুষের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে চোরা চালানকারীরা। কারণ, এতদিন সীমান্তের ফাঁকা অংশ ব্যবহার করে বিভিন্ন বেআইনি কাজ চলত বলে অভিযোগ। নতুন করে কাঁটাতার ও নজরদারি বাড়লে সেই পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। সীমান্ত সুরক্ষার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজনও। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে দেশের নিরাপত্তাও আরও মজবুত হবে। স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে সীমান্তের বিভিন্ন কাঁটাতারহীন অংশে বেড়া দেওয়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই বাকি অংশের কাজও দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুলে চাঁদপুর গ্রামে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ শুরু হওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সীমান্তবাসীরা। তাঁদের আশা, আগামী দিনে সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও অনেকটাই স্বাভাবিক ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram