জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা, বাসে চেপে প্রশাসনিক বৈঠকে রওনা আধিকারিকদের

শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক আধিকারিকদের একসঙ্গে যাত্রা করার ফলে পারস্পরিক সমন্বয়ও আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রাপথেই বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ মিলছে আধিকারিকদের। ফলে বৈঠকের আগেই জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হচ্ছে বলে মত প্রশাসনিক মহলের। এদিকে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ প্রশাসন। বম্ব স্কোয়াডের তল্লাশি থেকে শুরু করে সিসিটিভি নজরদারি—সব মিলিয়ে গোটা এলাকাকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্তাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা, শিল্প, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জেলার আধিকারিকদের কাছ থেকে সরাসরি রিপোর্ট নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এই সম্মিলিত বাসযাত্রা আলাদা করে নজর কেড়েছে। সাধারণত এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে আধিকারিকরা আলাদা আলাদা গাড়িতে যাতায়াত করেন। সেখানে একযোগে বাসে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তেমনই প্রশাসনিক সংহতির ছবিও তুলে ধরা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই স্তরেই বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তারই একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে এই বাসযাত্রাকে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের একসঙ্গে বাসে চেপে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার ছবি ইতিমধ্যেই চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, সরকারি স্তরে যদি এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠকের আগে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এই সম্মিলিত বাসযাত্রা এখন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তাকে সামনে রেখে প্রশাসনের এই উদ্যোগ আগামী দিনে অন্য জেলাগুলির কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে একাংশ। আর সেই আবহেই এখন নজর দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠকের দিকে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।
