নানুরে মাঠে ছড়িয়ে ভোটার কার্ড !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
নানুর : রবিবার সকালে বীরভূমের নানুর ব্লকের কীর্ণাহার পশ্চিম পাড়া এলাকায় আচমকাই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান, রাস্তার ধারে এবং মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র। প্রথমে বিষয়টি বুঝে উঠতে না পারলেও পরে কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলি আসলে বিভিন্ন ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড। কিছু কার্ড কাদার মধ্যে পড়ে রয়েছে, আবার কিছু উড়ে গিয়ে মাঠের একাধিক অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি চোখে পড়তেই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এত সংখ্যক ভোটার পরিচয়পত্র একসঙ্গে মাঠে পড়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। তাঁদের প্রশ্ন, এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি কীভাবে মাঠের মধ্যে এল? এগুলি কি কোথাও থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে? বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর এমন ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নানুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করেছে। আর তার ঠিক পরেই মাঠের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, ভোটার পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। তাই এত সংখ্যক কার্ড কীভাবে রাস্তায় বা মাঠে পড়ে থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি এর পিছনে কোনও বড় ধরনের গাফিলতি, অবহেলা অথবা সংগঠিত চক্র কাজ করছে কিনা, সেটাও তদন্ত করে দেখা উচিত বলে মত তাঁদের।
নানুরে মাঠে ছড়িয়ে ভোটার কার্ড !
নানুরে ভোটার কার্ড উদ্ধারে রাজনৈতিক তরজা

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ভোটার পরিচয়পত্র অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ ভোটার কার্ড শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার নথি নয়, বিভিন্ন সরকারি কাজের ক্ষেত্রেও পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেই মনে করছেন এলাকার মানুষ। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ছড়িয়ে থাকা ভোটার পরিচয়পত্রগুলি একে একে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। কোন এলাকার বাসিন্দাদের কার্ড উদ্ধার হয়েছে, কীভাবে সেগুলি সেখানে এল, এবং এর পিছনে কারা রয়েছে— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে গোটা ঘটনার রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। কারণ ভোটার তালিকা, পরিচয়পত্র এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত যে কোনও অনিয়ম মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। ফলে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনাও। কেউ বলছেন, হয়তো কোনও ব্যাগ থেকে কার্ডগুলি ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবার কারও অনুমান, পরিকল্পিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিতে চাইছে না পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হোক। পাশাপাশি যাঁদের ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে, তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করে নিরাপদে কার্ড ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হোক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা ও নথি সংরক্ষণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র কীভাবে প্রকাশ্য মাঠে পড়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সবমিলিয়ে, বীরভূমের নানুরের কীর্ণাহার পশ্চিম পাড়ায় মাঠের মধ্যে থেকে একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধারের ঘটনায় এখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন মিটতেই এমন ঘটনার সামনে আসা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই মহলেই বাড়িয়েছে চাপ। তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram