
মিছিল চলাকালীন বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, গলসির মানুষ দু’হাত তুলে বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছেন। সাধারণ মানুষের সেই সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটা শুধু রাজনৈতিক বিজয় নয়, সাধারণ মানুষের জয়। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই তাঁদের ধন্যবাদ জানাতেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।” বিধায়ক আরও দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। এবার মানুষ নতুন সরকারের উপর ভরসা রেখেছেন। তাই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। অন্যদিকে বিজেপি নেতা সুমন দে-ও এদিন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছে। সেই কারণেই গোটা বাংলাজুড়ে বিজেপির পক্ষে জনসমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। সুমন দে বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। মানুষ চেয়েছিল স্বচ্ছ প্রশাসন। সেই কারণেই বাংলার মানুষ বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন। গলসিতেও মানুষ বিপুল সমর্থন দিয়েছেন। এই বিজয় মিছিল সেই জনসমর্থনেরই প্রতিফলন।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে সরকার গঠনের পর বিজেপির এই ধরনের বিজয় মিছিলের লক্ষ্য শুধুমাত্র উৎসব পালন নয়, সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনও। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং শিল্পাঞ্চল ঘেঁষা এলাকাগুলিতে নিজেদের প্রভাব আরও মজবুত করতে চাইছে বিজেপি। আর সেই কারণেই গলসির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এত বড় মিছিল রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনের মিছিলে মহিলা কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেককেই দেখা যায় দলীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিতে। পাশাপাশি যুব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপির দাবি, শুধু দলীয় কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিজয় মিছিলে সামিল হয়েছেন। মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ছিল কড়া। বুদবুদ থানার পুলিশ গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখে। যদিও গোটা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সবমিলিয়ে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের আবহে বুদবুদের এই বিশাল বিজয় মিছিল এখন রাজনৈতিক মহলে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাম-সীতার সাজ, ডিজের তালে নাচ এবং হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে কার্যত শক্তিপ্রদর্শনের ছবি তুলে ধরল গলসির বিজেপি শিবির।
