মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণের !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
মালদা : রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকার গঠন ঘিরে যখন উত্তাল রাজনৈতিক মহল, তখন মালদা থেকে উঠে এল এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। তৃণমূল নেতা তথা ইংলিশ বাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শনিবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা আসতে শুরু করে। তবে বিরোধী শিবিরের এক গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার এভাবে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে নয়, ইংলিশ বাজার পৌরসভার তরফ থেকেও আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, “অল্প বয়সেই মুখ্যমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আমি তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।” শুধু শুভেচ্ছা জানিয়েই থেমে থাকেননি তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জানান, শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গেও একসময় রাজনীতি করেছেন তিনি। ফলে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও তিনি স্মরণ করেন, শুভেন্দু অধিকারী একসময় মালদার অবজারভার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। সেই সময়ে জেলার রাজনৈতিক সংগঠন নিয়ে শুভেন্দুর সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “শুভেন্দু অধিকারীকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। ওঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে।” তৃণমূল নেতা আরও বলেন, “আমি আশা করব, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।” রাজনৈতিক সৌজন্যের এই বার্তাকেই এখন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণের !
তৃণমূল নেতার মুখে শুভেন্দু বন্দনা !

রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার এমন মন্তব্য নিছক সৌজন্য নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মালদার রাজনৈতিক অন্দরে। বিশেষ করে কিছুদিন আগেই কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর করা বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে সামনে আসছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেছিলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তিলে তিলে দলটাকে শেষ করে দিয়েছেন।” সেই মন্তব্য ঘিরে তখনও যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। আর এবার বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। যদিও এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সৌজন্যের অংশ। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানানো গণতান্ত্রিক রীতি বলেই তিনি মনে করেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি বক্তব্যেরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে যখন রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে, তখন এই ধরনের মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্ন তুলে দেয়। মালদার রাজনৈতিক মহলেও এখন এই বিষয়টি নিয়ে চলছে জোর চর্চা। একাংশের মতে, এটি নিছক সৌজন্য হলেও অন্য অংশের মতে, আগামী দিনে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের সম্ভাবনাকেও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে বিজেপি শিবির অবশ্য এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। তাঁদের বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছা আসা প্রমাণ করছে যে মানুষ পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব যদিও প্রকাশ্যে এ নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে নারাজ। তবে রাজনৈতিক অন্দরে যে এই ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা অনেকেই মনে করছেন। সব মিলিয়ে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর মন্তব্য এখন মালদার রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এটি শুধুই রাজনৈতিক সৌজন্য, নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত— সেই উত্তর সময়ই দেবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram