This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
পূর্ব বর্ধমান : দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের রেশন দুর্নীতি মামলায় সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা থেকে শুরু করে কলকাতা এবং পূর্ব বর্ধমান—বিভিন্ন জায়গায় চাল ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিসে চলে তল্লাশি, যা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন করে গতি আনতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলায় একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে—সরকারি রেশন সামগ্রী বণ্টনে অনিয়ম, খাদ্যশস্য পাচার, ভুয়ো উপভোক্তার নাম অন্তর্ভুক্তি সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই এবার ফের মাঠে নেমেছে ইডি। শনিবার ভোর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায় একাধিক চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয় ইডি আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চলে এই অভিযান। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেন, রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য অনিয়মের খোঁজে খতিয়ে দেখা হচ্ছে নথিপত্র। এদিকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকাতেও একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, রেশন দুর্নীতির জাল অনেকটাই বিস্তৃত এবং তার শিকড় শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে এই সমন্বিত অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে পাওয়ার আশায় রয়েছে ইডি। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও চলে জোর তল্লাশি। জিটি রোড সংলগ্ন মা অন্নপূর্ণা রাইস মিলের অফিসে সকাল সকাল পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। তাদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। মিল প্রাঙ্গণে ঢুকেই শুরু হয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা, কম্পিউটার ডেটা যাচাই এবং কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ।
ভোটের আগে রেশন দুর্নীতিতে ইডির ঝটিকা অভিযান, রাজ্যজুড়ে তল্লাশিতে চাঞ্চল্য
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ জন আধিকারিকের একটি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য—রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা। বিশেষ করে চাল সরবরাহ ও মজুত সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি বরাদ্দের হিসাব এবং বাজারে বিক্রির মধ্যে কোনও অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মা অন্নপূর্ণা রাইস মিল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। ফলে সেখানে ইডির হানা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। সকাল থেকেই মিলের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন কৌতূহলী মানুষজন। নিরাপত্তার কারণে এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের দাবি, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে দাবি করা হয়েছে, আইন আইনের পথে চলবে এবং যদি কোনও দুর্নীতি থেকে থাকে, তাহলে তার তদন্ত হওয়াই স্বাভাবিক। উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে এবং কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই মামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় নাম সামনে আসতে পারে। ইডির এই সাম্প্রতিক অভিযান সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভোটের আগে এই ধরনের তল্লাশি অভিযান রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাদের কাজ সম্পূর্ণভাবে আইন অনুযায়ী এবং নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে হাবরা, কলকাতা এবং পূর্ব বর্ধমান—এই তিন জায়গাতেই তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে। তদন্তকারীরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহ করেছেন বলে সূত্রের খবর। সেগুলি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির এই সক্রিয়তা রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের। এই অভিযানের ফলাফল কী দাঁড়ায়, তা জানতে আগ্রহী রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও।