This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
হুগলি : রাজ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করে তুলতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রবীণ ও অসুস্থ নাগরিকদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আশি ঊর্ধ্ব নাগরিক, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি এবং গুরুতর অসুস্থ ভোটাররা নিজেদের বাড়িতে বসেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এই ব্যবস্থা গত কয়েক বছর ধরেই চালু থাকলেও, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তা সমান গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন-এর নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই প্রক্রিয়া একযোগে শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—যাতে কোনও ভোটার শুধুমাত্র শারীরিক অসুবিধা বা বার্ধক্যের কারণে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি যে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, তা আরও একবার প্রমাণিত হচ্ছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে মোট দু’দফায়। প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩শে এপ্রিল, আর দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯শে এপ্রিল। হুগলি জেলা পড়ছে দ্বিতীয় দফার আওতায়, অর্থাৎ ২৯শে এপ্রিল সেখানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন দপ্তর। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হুগলি জেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের ভোট গ্রহণ করছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি চিত্র ধরা পড়েছে বলাগড় বিধানসভার অন্তর্গত চন্দ্রহাটি অঞ্চলে। চন্দ্রহাটি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ড্যামরা এলাকায় এই বাড়ি বাড়ি ভোটগ্রহণের বাস্তব চিত্র দেখা যায়, যা তুলে ধরেছে টিভি নিউজ টেন। সেখানে এক বয়স্ক বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে ভোট গ্রহণ করতে দেখা যায় নির্বাচন কর্মীদের। ওই বৃদ্ধার বয়স আশির বেশি হওয়ায় এবং শারীরিকভাবে চলাফেরা করতে অক্ষম হওয়ায় তাঁকে বাড়িতেই ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। নির্বাচন কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায়। বাড়ির ভিতরে যখন ওই বৃদ্ধা ভোট দিচ্ছিলেন, তখন বাড়ির চারপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিয়ম মেনে এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ করা হয়, যা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
বাড়ি বাড়ি পৌঁছচ্ছে ভোট, প্রবীণ ও অসুস্থদের জন্য বিশেষ উদ্যোগে শুরু হল ভোটগ্রহণ
ভোট দেওয়ার পর ওই বৃদ্ধা জানান, তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে বাড়িতে বসেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। তাঁর কথায়, “আজ আমি ভোট দিতে পেরেছি, খুব ভালো লাগছে।” তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বৃদ্ধার ছেলে জানান, বেলা নাগাদ নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা তাঁদের বাড়িতে আসেন এবং প্রথমেই জানতে চান, তাঁর মা হাঁটতে পারেন কি না। যখন তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তিনি চলাফেরা করতে অক্ষম, তখনই কমিশনের পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সমস্ত প্রক্রিয়া মেনে বাড়িতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শুধু ওই পরিবারই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়, কারণ এতে সমাজের এমন একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন, যারা সাধারণত শারীরিক কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। কারণ এতে প্রতিটি নাগরিকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কেউ যাতে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করা হয়। একইসঙ্গে, এটি প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতেও সাহায্য করে। এছাড়াও, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে এবং ভোটদানের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে এই উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার এই ব্যবস্থা শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান ও দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে, ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এই ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের উদ্যোগ যে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে, তা বলাই যায়। এখন দেখার বিষয়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কতজন ভোটার উপকৃত হন এবং সামগ্রিক ভোটদানের চিত্রে এর কতটা প্রভাব পড়ে।