কংগ্রেসের মঞ্চে তারকা ঝলক, প্রচারে আজহারউদ্দিনের আগমন
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
- মুর্শিদাবাদ : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ যখন ক্রমশ তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন তারই মাঝে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের প্রচারে যুক্ত হল এক বড় নাম। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন শনিবার জেলার মাটিতে পা রাখেন এবং একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে দিনভর নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাঁর এই আগমন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে তিনি জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্র—রাণীনগর, দৌলতাবাদ এবং মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র—এ বিভিন্ন জনসভা, পথসভা ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটের আবেদন জানানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে। শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে করে জেলায় পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় আগে থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থক। দলের পতাকা, ব্যানার এবং স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে একঝলক দেখার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন একপ্রকার জনউৎসবে পরিণত হয়। জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ফুলের তোড়া, উত্তরীয় এবং করতালির মধ্য দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয় মঞ্চে। স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্যে উঠে আসে যে, আজহারউদ্দিনের মতো জাতীয় স্তরের একজন পরিচিত মুখের উপস্থিতি এই নির্বাচনী লড়াইয়ে কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল বাড়াবে এবং ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আজহারউদ্দিনের এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস তাদের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় স্তরের পরিচিত মুখদের প্রচারে নামানো একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
দিনভর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি কংগ্রেস প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে একাধিক প্রসঙ্গ। যদিও তাঁর বক্তৃতা ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত, তবুও তাঁর উপস্থিতি ঘিরে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। স্থানীয় স্তরে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে এই সফর নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের তারকা প্রচারকদের উপস্থিতি নির্বাচনের আগে কর্মীদের আরও সক্রিয় করে তুলতে সাহায্য করে এবং প্রচারে গতি আনে। এছাড়াও, আজহারউদ্দিনের মতো একজন প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়কের জনপ্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও যথেষ্ট রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেটপ্রেমী যুব সমাজের মধ্যে তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বেশি। ফলে তাঁর প্রচারসভায় যুবকদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল বলে জানা গেছে। এদিনের কর্মসূচিতে নিরাপত্তার দিকটিও যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে সভাস্থল পর্যন্ত সর্বত্র নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে, মুর্শিদাবাদে আজহারউদ্দিনের এই প্রচার সফর কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে এক নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর উপস্থিতি শুধু কর্মীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রচারসভা যে রাজনৈতিক সমীকরণে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে, তা মানছেন অনেকেই। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত বলা যায়, আজহারউদ্দিনের এই সফর মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী আবহে এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
