This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
বীরভূম : বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে বাড়ছে উত্তাপ, বাড়ছে ভাষার তীব্রতা। এই আবহেই বীরভূম জেলার সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সাহাপুর গ্রামে এক রোড শো থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন Humayun Kabir। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে এসে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র বিরুদ্ধে। রোড শো-র মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর বলেন, “রাজ্যে টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ চোরেদের রানি হয়ে গিয়েছেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বভাবতই এই ধরনের ব্যক্তিগত কটাক্ষকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক, যা ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। শুধু মুখ্যমন্ত্রীকেই নয়, এদিন তিনি আক্রমণ করেন বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা Anubrata Mondal-কেও। একসময় যাঁকে ‘বীরভূমের বাঘ’ বলা হত, সেই অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে কটাক্ষ করে হুমায়ুন বলেন, “তিহার জেল থেকে ঘুরে আসার পর তিনি আর আগের মতো হুংকার ছাড়তে পারছেন না। এখন আর তাঁকে বলতে শোনা যায় না—রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে উন্নয়ন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, তৃণমূল কংগ্রেসের আগের সেই দাপট এখন আর নেই। তাঁর দাবি, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং এবারের নির্বাচন সেই পরিবর্তনেরই সূচনা করবে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। হুমায়ুন কবীর বলেন, “এবার নির্বাচন কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা করেছে, বুথের ভিতরে কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ট থাকবে না। ফলে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন।” তাঁর মতে, এই ব্যবস্থার ফলে ভোটাররা স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন এবং এর প্রভাব পড়বে নির্বাচনের ফলাফলে। তিনি আরও দাবি করেন, “অন্যান্য জেলার মতো বীরভূম জেলাতেও আমূল পরিবর্তন ঘটবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাস, যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই দাবিকে অতিরঞ্জিত বলেই মনে করছেন।
সিউড়িতে হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক, রাজ্য রাজনীতিতে চড়ল উত্তাপ
এদিনের সভায় সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল তাঁর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে মন্তব্য। হুমায়ুন বলেন, “যে মুসলমানদের একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘দুধেল গাই’ বলেছিলেন, সেই গাইয়েরাই এবার তাঁকে জোড়া পায়ে লাথি মারবে।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত কিছু মানুষের মধ্যে সমর্থনের সুর শোনা গেলেও, বৃহত্তর সমাজে তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। SIR বা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। এই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি একটি সংবেদনশীল ইস্যু। হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন তিনি, পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। বর্তমানে তাঁর অবস্থান ও রাজনৈতিক জোট নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, তিনি বিজেপির ঘনিষ্ঠ, যদিও তিনি সরাসরি তা স্বীকার করেননি। এছাড়াও, তাঁর সঙ্গে Asaduddin Owaisi-র নেতৃত্বাধীন দলের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, তবুও ওয়েসি সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর দেখা যাবে সরকার গঠনে রিমোট কন্ট্রোল মুসলিমদের হাতেই থাকবে।” এই বক্তব্যও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। তবে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। কয়েকদিন আগেই তাঁর একটি কথিত গোপন ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। ওই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিপুল অর্থের বিনিময়ে মুসলিম ভোট প্রভাবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবুও তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সমাজের একাংশ এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য শুধু অপমানজনকই নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায়কে হেয় করার শামিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার পর হুমায়ুন কবীরের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে, সিউড়ির এই রোড শো শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং তা পরিণত হয়েছে একাধিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। নির্বাচনের আগে এই ধরনের মন্তব্য যে রাজনৈতিক আবহকে আরও তীব্র করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, এই মন্তব্যগুলির প্রভাব ভোটের ময়দানে কতটা পড়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কীভাবে এই ইস্যুকে কাজে লাগায়। রাজনীতির ময়দানে ভাষার ব্যবহার সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ভাষা যখন বিতর্ক সৃষ্টি করে, তখন তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে না—তার প্রভাব পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। তাই এই ঘটনাকে ঘিরে নজর এখন গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের দিকেই।