তারাপীঠে কয়লাবোঝাই মালগাড়িতে ধোঁয়া !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বীরভূম : তারাপীঠ রেল স্টেশনে হঠাৎই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। কয়লাবোঝাই একটি মালগাড়ি থেকে আচমকা ধোঁয়া বের হতে দেখা যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় বড়সড় বিপদের আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁইথিয়া থেকে রামপুরহাটগামী ওই মালগাড়িটি নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী চলাচল করছিল। ট্রেনটি যখন তারাপীঠ স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছয়, ঠিক সেই সময় হঠাৎই ট্রেনের পিছনের দিকের প্রায় ১৩ নম্বর বগি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন রেল কর্মীরাই। এরপর দ্রুত বিষয়টি উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই মালগাড়িটিকে তারাপীঠ রেল স্টেশনে থামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার পরই শুরু হয় জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ। রেল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধোঁয়া বের হওয়া বগিটি চিহ্নিত করেন এবং প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও। এলাকায় যাতে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, সেদিকে নজর রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্টেশনে উপস্থিত সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে রেল কর্মীরা বালতিতে জল এনে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। ধোঁয়া যাতে আগুনে পরিণত না হয়, সেই দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত বড় আকারে আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকলের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার ফলে আপ ও ডাউন লাইনের ট্রেন চলাচলে কোনও ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি।
তারাপীঠে কয়লাবোঝাই মালগাড়িতে ধোঁয়া !
তারাপীঠ স্টেশনে মালগাড়ি থেকে ধোঁয়া ! অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল রেল
অন্যান্য ট্রেন স্বাভাবিকভাবেই তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করেছে। ফলে যাত্রী পরিষেবায় কোনও বড়সড় প্রভাব পড়েনি বলেই দাবি রেলের। তবে চলন্ত মালগাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই মনে করছেন, যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হত, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বিশেষ করে কয়লাবোঝাই বগিতে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে এই ধোঁয়া সৃষ্টি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কয়লার অভ্যন্তরে কোনও ধরনের তাপ সঞ্চয় বা ঘর্ষণের ফলে ধোঁয়া তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বগিটি আলাদা করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে। নিয়মিত পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, তারা প্রথমে ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে পরে যখন দেখেন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে, তখন কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। অনেকেই রেল কর্মী এবং দমকল বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসাও করেছেন। সব মিলিয়ে, তারাপীঠ রেল স্টেশনে এই ঘটনাটি যদিও বড় দুর্ঘটনায় পরিণত হয়নি, তবুও তা রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মালগাড়িতে বহন করা দাহ্য পদার্থের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে ঠিক কী কারণ সামনে আসে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে রেল কতটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে আপাতত দ্রুত পদক্ষেপের জেরে একটি সম্ভাব্য বিপদ যে এড়ানো গিয়েছে, তা বলাই যায়।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram