This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
রানিগঞ্জ : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শাসক-বিরোধী তরজা, প্রচার, পাল্টা প্রচারের মাঝে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জে এসে মাজারে চাদর অর্পণ করে জিয়ারত করলেন Asaduddin Owaisi। তাঁর এই সফর ঘিরে এলাকাজুড়ে আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল তীব্র উৎসাহ এবং কৌতূহল, যার ফলে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। সকালের দিক থেকেই রানিগঞ্জের মাজার চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষ ও দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। Asaduddin Owaisi পৌঁছনোর পর তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনতা। ধর্মীয় রীতি মেনে মাজারে চাদর অর্পণ করেন তিনি এবং বিশেষ প্রার্থনা জানান। এই জিয়ারত কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তারও কড়া ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ওয়েইসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী দানিশ আজিজ, পাশাপাশি ছিলেন All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen-এর একাধিক নেতা-কর্মী এবং বহু সমর্থক। মাজারে প্রার্থনা জানানোর পর তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থীদের সমর্থন করার আবেদন জানান। নিজের বক্তব্যে Asaduddin Owaisi বলেন, “আমরা মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে এসেছি। যারা বঞ্চিত, যারা নিজেদের কথা বলতে পারেন না, তাদের কণ্ঠস্বর হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গেও আমরা সেই লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার রক্ষায় তাঁর দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
রানিগঞ্জে ওয়েইসির মাজার সফর ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে, ভোটের আগে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তারা নিজেদের ভিত্তি মজবুত করতে চাইছে। সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে এই ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রানিগঞ্জ এবং আসানসোল অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র। এখানে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের বসবাস, যার ফলে এই এলাকা সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। সেই কারণে নির্বাচনের আগে এই ধরনের সফর এবং কর্মসূচি রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়েইসির সফরের ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেখানে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। যদিও শাসক দল বা অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দল এখনও প্রকাশ্যে এই সফর নিয়ে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলের অভিমত—এই সফরকে তারা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ওয়েইসির আগমন এলাকায় এক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার সূচনা করেছে। কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যে সমর্থন জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন—এটি শুধুমাত্র নির্বাচনী কৌশলের অংশ। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কৌতূহল এবং আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। এদিকে দানিশ আজিজও এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। ওয়েইসি সাহেবের এই সফর আমাদের কর্মীদের উৎসাহিত করবে এবং আমরা আরও শক্তিশালীভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে পারব।” তিনি আশাবাদী, আসন্ন নির্বাচনে মানুষ তাঁদের সমর্থন করবে। সব মিলিয়ে, রানিগঞ্জে Asaduddin Owaisi-এর এই সফর রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি শুধু ধর্মীয় আবেগকেই স্পর্শ করে না, বরং তা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর ফলে ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই যে আরও জমে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। আগামী দিনে All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen কীভাবে নিজেদের প্রচার কৌশল সাজায় এবং এই সফরের প্রভাব কতটা পড়ে ভোটের ফলাফলে, সেটাই এখন দেখার। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছে, আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন Asaduddin Owaisi।