৭০-এ নতুন শুরু : পাওয়ারলিফটিংয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অঞ্জলি হাজারী

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
BEAURO REPORT : ৭০ বছর বয়সে এসে বেশিরভাগ মানুষই একটু ধীর গতিতে চলতে চান, বিশ্রাম নিতে চান, আরামদায়ক জীবন বেছে নিতে চান। কিন্তু হংকংয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এবং একটি টিউটোরিয়াল সংস্থার মালিক অঞ্জলি হাজারী বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ—তিনি শুরু করেছেন পাওয়ারলিফটিং। অঞ্জলির গল্প এমন এক অনুপ্রেরণা, যা আজকের দিনে আমাদের সবারই প্রয়োজন। একসময় তিনি ছিলেন উৎসাহী ম্যারাথন দৌড়বিদ এবং পর্বতারোহণে গভীর আগ্রহী। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি বহু ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পাহাড়ে চড়ার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। হাঁটুর ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এরপর আরও বড় ধাক্কা আসে—তাঁর শরীরে ধরা পড়ে অস্টিওপোরোসিস, এমন একটি রোগ যা হাড়কে দুর্বল করে দেয় এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হয়তো সম্পূর্ণভাবে শারীরিক কসরত ছেড়ে দিতেন। কিন্তু অঞ্জলি হাজারী সেই পথ বেছে নেননি। তিনি দৌড়ানোর জুতো খুলে রেখে নতুন এক যাত্রা শুরু করেন—শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে পাওয়ারলিফটিংয়ের মঞ্চে পা রাখেন। পাওয়ারলিফটিং শুরু করার আগে থেকেই অঞ্জলির জীবন ছিল সক্রিয় ও অ্যাডভেঞ্চারে ভরা। ম্যারাথন দৌড়ানো, পাহাড়ে চড়া—এসবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের অংশ। এমনকি হাঁটু এবং পেটের অস্ত্রোপচারের পরও তিনি নিজেকে থামিয়ে রাখেননি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শরীরকে যতটা সম্ভব সচল রাখা উচিত, কারণ চলাফেরা বন্ধ করে দিলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। অস্টিওপোরোসিস ধরা পড়ার পর সাধারণত অনেকেই খুব হালকা ধরনের ব্যায়ামের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু অঞ্জলি সেই পথে না গিয়ে উল্টো শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম শুরু করেন। ৬৯ বছর বয়সে এসে তিনি স্ট্রেংথ ট্রেনিং শুরু করেন, যা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। আর এখন, ৭০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি নিয়মিত স্কোয়াট, ডেডলিফট এবং বেঞ্চ প্রেসের মতো কম্পাউন্ড লিফট অনুশীলন করছেন—তাও সঠিক ফর্ম এবং প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে। অঞ্জলির এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে শক্তি বৃদ্ধি শুধুমাত্র তরুণদের জন্য নয়, বরং বয়স্কদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখা এবং পেশী শক্তিশালী রাখার ক্ষেত্রে স্ট্রেংথ ট্রেনিং এক ধরনের ওষুধের মতো কাজ করতে পারে। তাঁর ফিটনেস দর্শন অত্যন্ত সহজ কিন্তু কার্যকর—নিজেকে সবসময় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করো। তিনি মনে করেন, ফিটনেস কোনও নির্দিষ্ট বয়সের জন্য নয়, বরং এটি আজীবনের একটি প্রতিশ্রুতি। এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
৭০-এ নতুন শুরু : পাওয়ারলিফটিংয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অঞ্জলি হাজারী
বয়স শুধু সংখ্যা : ৭০-এ শক্তির নতুন সংজ্ঞা গড়ছেন অঞ্জলি হাজারী
অঞ্জলির গল্প সমাজে প্রচলিত অনেক ধারণাকে ভেঙে দিচ্ছে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, অবসর নেওয়ার পর জীবন ধীরে ধীরে স্থির হয়ে যায় এবং নতুন কিছু শুরু করার সময় আর থাকে না। কিন্তু অঞ্জলি প্রমাণ করেছেন, ৭০ বছর বয়সও হতে পারে নতুন কিছু শুরু করার উপযুক্ত সময়। আজ তিনি শুধু নিজের জন্যই কাজ করছেন না, বরং হংকংসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বহু নারীকে অনুপ্রাণিত করছেন—বিশেষ করে ৬০ ও ৭০ বছরের মহিলাদের। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—বয়স কোনও বাধা নয়, ইচ্ছাশক্তিই আসল শক্তি। বয়স্কদের জন্য সক্রিয় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, বরং চলাফেরার ক্ষমতা এবং স্বাধীনতাও বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু বাস্তবতা হল, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা মানুষের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করেন। আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি গাইডলাইনস ফর আমেরিকানস-এর তথ্য বলছে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশেরও কম মানুষ প্রস্তাবিত মাত্রায় অ্যারোবিক এবং পেশী শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করেন। শুধু অ্যারোবিক ব্যায়াম নয়, স্ট্রেংথ ট্রেনিংও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করেছে, এই ধরনের ব্যায়াম পেশী শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে, হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ করে তোলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশী কমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। ফলে খুব সাধারণ কাজ, যেমন বাগান করা বা হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের জন্য নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শারীরিক কার্যকলাপও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্জলি হাজারীর জীবনকাহিনি আমাদের শেখায়, কোনও বাধাই চূড়ান্ত নয়। ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য এবং সঠিক দিশা থাকলে যেকোনও বয়সেই নতুন কিছু শুরু করা সম্ভব। তাঁর মতো মানুষরাই আমাদের দেখিয়ে দেন, বয়স শুধু একটি সংখ্যা—আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে আমাদের মানসিকতার মধ্যে।তাঁর এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা—বয়স্কদেরও সক্রিয় থাকা উচিত, নিজেদের চ্যালেঞ্জ করা উচিত এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করা উচিত।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram