পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ায় ক্ষোভ, সাইকেলেই মনোনয়ন জমা কংগ্রেস প্রার্থীদের

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : ভোটের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে যখন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, তখনই সাধারণ মানুষের সমস্যাকে সামনে রেখে অভিনব প্রতিবাদের পথে হাঁটলেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। জ্বালানির লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সরব হয়ে সাইকেলে চেপে মনোনয়ন জমা দিতে গেলেন তিন প্রার্থী। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী উত্তম কুমার রায়, দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী দেবেশ চক্রবর্তী এবং রানীগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী ফাইয়াজ আহমেদ—এই তিনজন একত্রে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। শনিবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকা থেকে শুরু হয় তাঁদের সাইকেল যাত্রা। সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরাও। হাতে কংগ্রেসের পতাকা, গলায় স্লোগান—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম নির্বাচনী প্রচারের ছবি ধরা পড়ে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে। সাধারণত মনোনয়ন জমা দিতে প্রার্থীরা গাড়ির বহর, শোভাযাত্রা কিংবা বড়সড় মিছিল নিয়ে বের হন। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারা ভেঙেই কংগ্রেস প্রার্থীরা বেছে নিলেন সাইকেলকে। তাঁদের এই পদক্ষেপ যে শুধুমাত্র প্রচারের কৌশল নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা—তা স্পষ্ট তাঁদের বক্তব্য থেকেই। সাইকেল যাত্রার মাধ্যমে তাঁরা মূলত পেট্রোল ও ডিজেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছেন। প্রার্থীদের দাবি, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে শুধু পরিবহণ খরচই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও হু হু করে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের পক্ষে সংসার চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, “আজ আমরা যে সাইকেলে চেপে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছি, তা শুধুমাত্র প্রতীকী নয়। এটি আমাদের প্রতিবাদ। পেট্রোল-ডিজেলের দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়ছেন। আমরা সেই সমস্যাটাই তুলে ধরতে চাই।” একই সুর শোনা যায় পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রের প্রার্থী উত্তম কুমার রায়ের গলাতেও। তিনি বলেন, “আজ সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না, কিন্তু খরচ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে সব কিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই সাইকেল বেছে নিয়েছি।”
পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ায় ক্ষোভ, সাইকেলেই মনোনয়ন জমা কংগ্রেস প্রার্থীদের
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সাইকেলে মনোনয়ন জমা, দুর্গাপুরে অভিনব কংগ্রেস প্রচার

রানীগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী ফাইয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের এই সাইকেল যাত্রার উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা। আমরা চাই, মানুষ বুঝুক কীভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। এই প্রতিবাদের মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাই।” সাইকেল যাত্রাটি সিটি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করে দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। পথে বহু সাধারণ মানুষ এই অভিনব উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করেন। অনেকেই মোবাইলে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের প্রতিবাদ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এভাবে সাইকেলে করে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়া সত্যিই অভিনব। এতে অন্তত মানুষ বুঝতে পারছে যে জ্বালানির দাম নিয়ে সমস্যা রয়েছে।” যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। বিরোধীদের দাবি, এটি শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারের অংশ এবং মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, তারা সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে তিন প্রার্থী নিয়ম মেনেই তাঁদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিনব প্রচার ভোটের সময় প্রায়ই দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যখন কোনও ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রচার চালানো হয়, তখন তা আরও বেশি প্রভাব ফেলে। বর্তমানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দুর্গাপুরে কংগ্রেস প্রার্থীদের এই সাইকেল যাত্রা নতুন করে সেই ইস্যুকেই সামনে নিয়ে এল। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরে কংগ্রেস প্রার্থীদের এই অভিনব উদ্যোগ নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার, এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের কর্মসূচি যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আগামী দিনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও কি এই ধরনের ব্যতিক্রমী পথে হাঁটবে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। শেষ পর্যন্ত, ভোটের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণই। তবে এই ধরনের অভিনব প্রচার যে ভোটের রাজনীতিতে নতুন ভাবনার দিক নির্দেশ করে, তা বলতেই হয়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram