This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
আসানসোল : গুড ফ্রাইডের পবিত্র আবহে জনসংযোগে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করলেন আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি। শুক্রবার সকালে আসানসোল শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তাকে দেখা গেল সক্রিয়ভাবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে। ধর্মীয় অনুভূতি ও নির্বাচনী প্রচার— এই দুইকে মিলিয়ে এক অনন্য বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। শুক্রবার, গুড ফ্রাইডে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। যিশু খ্রিস্টের ত্যাগ ও আত্মবলিদানের স্মরণে এদিন বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় চার্চগুলিতে। সেই উপলক্ষেই আসানসোলের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি চার্চে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন বহু মানুষ। ঠিক সেই সময়েই চার্চ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি। চার্চে প্রবেশ করে তিনি প্রথমে প্রার্থনায় অংশ নেন। প্রার্থনার মাধ্যমে ধর্মীয় আবহকে সম্মান জানিয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। প্রার্থনা শেষে চার্চ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি একে একে উপস্থিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের জীবনের নানা দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এই জনসংযোগ কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণভাবে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি প্রয়াস। চার্চ থেকে বেরিয়ে তিনি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পথচলতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রচার চালান। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং নিজের ভাবনা তুলে ধরাই ছিল তার প্রচারের মূল লক্ষ্য। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি বলেন, “গুড ফ্রাইডে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি দিন। আজ অনেকেই প্রার্থনার জন্য চার্চে এসেছেন। আমি সেই সুযোগে তাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি এবং শুভেচ্ছা জানাতে পেরেছি।” তার কথায়, এই ধরনের দিন মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বিভাজন ও মেরুকরণের প্রবণতা বাড়ছে, যা সমাজের পক্ষে শুভ নয়। “আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা যায়,”— এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি। তার এই বক্তব্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে সামাজিক সম্প্রীতির আহ্বান। নির্বাচনের আগে এই ধরনের বার্তা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
গুড ফ্রাইডের পবিত্রতায় জনসংযোগ, চার্চে প্রার্থনার ফাঁকে প্রচারে কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি
প্রচারের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে দাবি করেন প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি। অনেকেই তার সঙ্গে কথা বলেন, নিজেদের সমস্যার কথা জানান এবং তার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। বিশেষ করে চার্চে উপস্থিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে তার এই উপস্থিতি এক ধরনের আত্মীয়তার অনুভূতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এভাবে প্রার্থনার দিনে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করা, কথা বলা— এটা খুব ভালো লেগেছে। এতে মনে হয় প্রার্থী আমাদের অনুভূতিকে সম্মান করছেন।” এই ধরনের প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, জনসংযোগের এই কৌশল কতটা কার্যকর হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। এতে প্রার্থীরা সহজেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেন এবং তাদের আস্থা অর্জনের সুযোগ পান। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, আসানসোল একটি বহু-সাংস্কৃতিক ও বহু-ধর্মীয় জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। ফলে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচারের সময় দলীয় কর্মীরাও সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রার্থীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এতে একদিকে যেমন প্রচারের গতি বাড়ে, তেমনই দলীয় শক্তিরও প্রদর্শন ঘটে। প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির এই প্রচার স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিল, নির্বাচনী লড়াই শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক সম্পর্ক ও মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। এই ধরনের উদ্যোগই ভোটারদের সঙ্গে এক অন্যরকম সংযোগ তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, গুড ফ্রাইডের পবিত্র দিনে চার্চে উপস্থিত হয়ে জনসংযোগের মাধ্যমে এক ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। এটি যেমন তার প্রচারের একটি অংশ, তেমনই সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টাও বলা যায়। এখন দেখার, এই ধরনের উদ্যোগ ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটুকু নিশ্চিত— মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই প্রচেষ্টা তাকে নির্বাচনী লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। নির্বাচন যত এগোবে, ততই এই ধরনের জনসংযোগমূলক কর্মসূচি বাড়বে। আর সেই সঙ্গেই স্পষ্ট হবে, কোন প্রার্থী মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারছেন। আপাতত গুড ফ্রাইডের দিনে প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির এই প্রচার আসানসোলের রাজনৈতিক আবহে এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।