প্রচারের মাঝেই ঝাড়ু হাতে রাস্তা সাফাই বিজেপি প্রার্থী সুমনার

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
হুগলি : ভোটের উত্তাপে যখন গোটা বাংলা সরগরম, তখন প্রচারের এক ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরে নজর কাড়লেন হুগলির বলাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকার। প্রচারের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একেবারে সাধারণ মানুষের মতো করে জনসংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেন তিনি। শুক্রবার সকালেই বলাগরের শ্রীপুর বাজার এলাকায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে প্রচারে নামেন সুমনা, আর সেখানেই দেখা গেল এক অভিনব চিত্র। সকালের বাজার— যেখানে প্রতিদিনের মতোই ভিড়, দরদাম আর ব্যস্ততা। সেই ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎ দেখা গেল বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকারকে। পাশে দলীয় কর্মীরা থাকলেও, তার আচরণে ছিল একেবারে সাধারণ মানুষের ছোঁয়া। হাতে বাজারের ব্যাগ, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে ঘুরে নিজের মতো করে বাজার করতে দেখা যায় তাকে। এই দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। তবে শুধু বাজার করা নয়, সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। বাজার এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ঝাড়ু হাতে তুলে নেন সুমনা সরকার। বাজার চত্বরে নিজেই সাফাই অভিযানে অংশ নেন এবং ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বার্তা দেন। একজন রাজনৈতিক প্রার্থীকে এভাবে হাতে ঝাড়ু নিয়ে কাজ করতে দেখে অনেকেই বিস্মিত হন, আবার অনেকেই তার এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা খুবই স্পষ্ট— রাজনীতি শুধু বক্তৃতা বা প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হয়। বাজারের মতো জনবহুল জায়গায় সাফাই অভিযান চালিয়ে তিনি একদিকে যেমন জনসংযোগ বাড়িয়েছেন, তেমনই সামাজিক সচেতনতার বার্তাও দিয়েছেন। প্রচারের ফাঁকে সুমনা সরকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। দোকানদার থেকে ক্রেতা— সকলের সঙ্গেই তিনি সময় কাটান, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ ভোটারদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনেকেই বলেন, “এভাবে কাছ থেকে কথা বললে মনে হয় প্রার্থী আমাদেরই একজন।” প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করেই সকাল থেকে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন সুমনা। ঘাম ঝরছে, তাপমাত্রা বাড়ছে— তবুও তার উদ্যমে কোনো ভাটা পড়েনি।
প্রচারের মাঝেই ঝাড়ু হাতে রাস্তা সাফাই বিজেপি প্রার্থী সুমনার
বাজারে ঝাড়ু হাতে বিজেপি প্রার্থী, বলাগরে অভিনব প্রচারে নজর কাড়লেন সুমনা সরকার
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই গরমে আমার কোনও কষ্ট হচ্ছে না। কর্মীরা যদি কষ্ট না পায়, তাহলে আমারও কষ্ট নেই। মানুষের কাছাকাছি যেতে পারলেই আমার শক্তি আরও বেড়ে যায়।” তার এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তিনি প্রচারের মূল শক্তি হিসেবে মানুষের সঙ্গে সংযোগকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। বড় বড় সভা বা মিটিংয়ের পাশাপাশি এই ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগই ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে— এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বলাগর এলাকার মানুষজনও তার এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের প্রচার আগে খুব একটা দেখা যায়নি। আবার কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবেও দেখছেন। তবে যে দিক থেকেই দেখা হোক না কেন, এই প্রচার যে নজর কাড়তে সফল হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে ভোটারদের মন জিততে শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হয় না, বরং নিজেদের কাজের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। সেই জায়গা থেকেই সুমনা সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এতে একদিকে যেমন মানবিক দিক ফুটে ওঠে, তেমনই সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটে। এই প্রচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দলীয় কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সুমনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারাও সাফাই অভিযানে অংশ নেন এবং প্রচারে সহযোগিতা করেন। এতে দলের মধ্যে ঐক্য ও শক্তির বার্তাও পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের কাছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের জনসংযোগ ও সামাজিক উদ্যোগ যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এখন নতুন নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে। কেউ প্রযুক্তির সাহায্যে প্রচার করছে, কেউ আবার সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে, বলাগরের শ্রীপুর বাজারে সুমনা সরকারের এই অভিনব প্রচার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তাও বটে। পরিচ্ছন্নতা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং বাস্তব কাজ— এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই তিনি প্রচারের এক ভিন্ন পথ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এখন দেখার, এই ধরনের উদ্যোগ ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপাতত এটুকু বলা যায়— সুমনা সরকারের এই প্রচার বলাগরের রাজনৈতিক ময়দানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটের লড়াই যত এগোবে, ততই এমন নতুন নতুন কৌশল সামনে আসবে, আর সেই লড়াই যে জমজমাট হতে চলেছে, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram