Log in

দুর্গাপুর : সাত সকালেই চাঞ্চল্য দুর্গাপুরের আশীষ নগর এলাকায়। ডিভিসি ক্যানালের জলে ভাসতে দেখা গেল এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃতদেহ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। আচমকা ক্যানালের জলে মৃতদেহ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন বহু মানুষ। খবর দেওয়া হয় দুর্গাপুর কোকওভেন থানায়। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুর পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আশীষ নগর সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে প্রতিদিনের মতোই এলাকায় চলাফেরা করছিলেন বাসিন্দারা। সেই সময় আচমকাই তাঁদের নজরে আসে ডিভিসি ক্যানালের জলে কিছু একটা ভাসছে। প্রথমে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও কাছে গিয়ে দেখা যায়, জলের মধ্যে একটি মহিলার দেহ ভাসছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে সেখানে মানুষের ভিড় জমে যায়। কেউ কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে ক্যানালের দিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। আবার অনেকেই বিষয়টি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নেন। খবর পৌঁছয় দুর্গাপুর কোকওভেন থানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। এরপর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ক্যানালের জল থেকে ওই মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর পুলিশ দেহটি পরীক্ষা করে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃতার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর নাম-পরিচয় কী, তিনি কোথাকার বাসিন্দা, কীভাবে তিনি ওই ক্যানালের জলে এসে পড়লেন—এই সমস্ত প্রশ্নই এখন তদন্তকারীদের সামনে। দেহ উদ্ধারের পর সেটি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে ওই মহিলা ডিভিসি ক্যানালের জলে পড়লেন? তিনি কি কোনওভাবে জলে পড়ে গিয়েছিলেন? নাকি তাঁর মৃত্যুর পর দেহ ক্যানালের জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে? আপাতত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। পুলিশের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা। কারণ পরিচয় জানা গেলে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে এবং তাঁর সাম্প্রতিক গতিবিধি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তিনি কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, কোথায় গিয়েছিলেন, কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, ক্যানালের জলে দীর্ঘক্ষণ দেহটি ছিল কি না, শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, কিংবা অন্য কোনও অস্বাভাবিকতার প্রমাণ মিলছে কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকেই এই প্রশ্নগুলির অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর আশীষ নগর সংলগ্ন এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও আতঙ্কের পরিবেশ। সকাল সকাল ক্যানালের জলে মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় বহু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, ক্যানাল সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের তরফে এখনও মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক বিষয়। প্রথমত, মৃতার পরিচয় নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণ করা। তৃতীয়ত, যদি এটি দুর্ঘটনা বা জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা না হয়ে থাকে, তাহলে ওই মহিলার দেহ কীভাবে ক্যানালের জলে এল, সেটিও খতিয়ে দেখা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতার পরিচয় জানতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় কেউ কোনও মহিলাকে নিখোঁজ অবস্থায় খুঁজছেন কি না, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতে পারে। প্রয়োজনে আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এদিকে, এই ঘটনার পর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে—ডিভিসি ক্যানালের মতো জলাশয় এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। ক্যানালের স্রোত, গভীরতা এবং বিভিন্ন অংশে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় এই ধরনের এলাকায় নজরদারি কতটা রয়েছে, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও বর্তমান ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টই এই রহস্যের জট খোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রিপোর্টে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং শরীরে কোনও আঘাত বা অন্য কোনও চিহ্নের উল্লেখ থাকলে তদন্তের গতিপথও সেই অনুযায়ী এগোতে পারে। সাতসকালে ক্যানালের জলে অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের আশীষ নগর এলাকায়। মৃতার পরিচয় কী, কীভাবেই বা তাঁর মৃত্যু হল, এবং কীভাবে তাঁর দেহ ডিভিসি ক্যানালের জলে এল—এই মুহূর্তে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে দুর্গাপুর কোকওভেন থানার পুলিশ। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার আসল রহস্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *