নিয়ামতপুরে বুথ পরিদর্শনে পুলিশ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায়। গণতন্ত্রের এই মহাযজ্ঞকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তরফে কোনওরকম খামতি রাখা হচ্ছে না। ভোটের দিন যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই একাধিক স্তরে চলছে পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার কাজ। এই প্রেক্ষাপটে কুলটি থানার অন্তর্গত নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ সোমবার এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হয়। রাতের অন্ধকারেও প্রশাসনের এই সক্রিয়তা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ভোটকে কেন্দ্র করে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন। এদিন নিয়ামতপুর ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মিহির কুমার দে-র নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল নিয়ামতপুর ধর্মশালা, শিও দত্তরায় গোয়েঙ্কা ফ্রি প্রাইমারি স্কুল, লছিপুর ব্রহ্মচারী স্কুল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বুথ পরিদর্শন করে। প্রতিটি কেন্দ্রেই খুঁটিয়ে দেখা হয় পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বাহির পথ, আলো, পানীয় জল এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি বুথে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই বুথগুলিতে কোনওরকম ত্রুটি বা ঘাটতি রয়েছে কিনা, তা সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে নজর দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ যাতে আলাদা থাকে এবং কোনও ভিড় বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়। এছাড়াও বুথ চত্বরের আশেপাশের এলাকাও পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোথাও অন্ধকার বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত আলো বসানোর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও বুথগুলিকে কতটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা হয় পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে। মিহির কুমার দে জানান, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা প্রতিটি বুথে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। ভোটের দিন যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনও ত্রুটি নজরে এলে তা সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।”
নিয়ামতপুরে বুথ পরিদর্শনে পুলিশ !
নির্বাচন ঘিরে তৎপর প্রশাসন, নিয়ামতপুরে বুথে বুথে পুলিশ
শুধু পরিকাঠামো নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের পরিদর্শন হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে, এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। হাতে সময় খুব বেশি না থাকায় প্রশাসন এখন থেকেই প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে তৎপর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু নিয়ামতপুর নয়, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্যান্য এলাকাতেও একইভাবে বুথ পরিদর্শন চলছে। প্রতিটি থানার অধীনে থাকা ফাঁড়িগুলিকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিজ নিজ এলাকার বুথগুলির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট জমা দেয়। এর পাশাপাশি নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নাকা চেকিং, রুট মার্চ এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় পুলিশের টহলদারি। বেআইনি অস্ত্র, নগদ অর্থ বা মদ পাচার রুখতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বুথ পরিদর্শন থেকে শুরু করে নিরাপত্তা জোরদার—সব দিক থেকেই প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রস্তুতি কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং ভোটের দিন কতটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়। গণতন্ত্রের উৎসবকে সফল করতে প্রশাসন যেমন তৎপর, তেমনই সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে সাধারণ ভোটারদেরও—এমনটাই মত প্রশাসনিক মহলের।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram