Log in

আসানসোল : পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে জাতীয় সড়ক ১৯-এর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কয়লাবোঝাই ট্রাকে আচমকা ভয়াবহ আগুন লাগাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির অন্তর্গত ডুবুর্ডিহি চেকপোস্টের পার্কিং এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের নির্সা এলাকা থেকে কয়লা বোঝাই করে রানাঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ট্রাকটি। পথে ডুবুর্ডিহি চেকপোস্ট সংলগ্ন পার্কিং এলাকায় ট্রাকটি দাঁড় করানো ছিল। সেই সময়ই আচমকা ট্রাকটির একাংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে ট্রাকের কাছ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ধোঁয়া ঘন কালো আকার ধারণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। কয়লা বোঝাই থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য ট্রাকচালক এবং স্থানীয় মানুষজন ঘটনাটি দেখতে পেয়েই ছুটে আসেন। আগুনের তীব্রতা দেখে তৈরি হয় আতঙ্ক। কারণ, একই এলাকায় একাধিক পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারত। ঘটনার খবর পৌঁছয় চৌরঙ্গী ফাঁড়ির পুলিশের কাছে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশকর্মীরা। স্থানীয় ট্রাকচালকদের সঙ্গে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাথমিক চেষ্টা শুরু হয়। তবে ট্রাকে কয়লা বোঝাই থাকায় আগুন নেভানোর কাজ সহজ ছিল না। আগুন যাতে আশপাশে থাকা অন্য কোনও ট্রাকে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা হয়। একইসঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমকল দপ্তরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। এরপর শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। দমকলকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে জল দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। আগুনের তীব্রতা এবং ট্রাকে থাকা কয়লার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় লাগে। অবশেষে দমকলকর্মী, পুলিশ এবং স্থানীয় ট্রাকচালকদের সম্মিলিত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বড়সড় কোনও বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

ঘটনায় ট্রাকটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি আগুন লাগার সঠিক কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কীভাবে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আচমকা আগুন ধরে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যান্ত্রিক কোনও ত্রুটি, বৈদ্যুতিক গোলযোগ নাকি অন্য কোনও কারণে এই আগুন—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাকচালক এম ডি সিরাজের দাবি, তাঁর ট্রাকে বৈধ কয়লাই ছিল। ঝাড়খণ্ডের নির্সা থেকে কয়লা নিয়ে তিনি রানাঘাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ডুবুর্ডিহি চেকপোস্টের পার্কিং এলাকায় ট্রাকটি দাঁড় করানোর পরই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে দাবি তাঁর। তবে ট্রাকে আগুন লাগার মুহূর্তে চালক কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতীয় সড়ক ১৯ সংলগ্ন এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই রুটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে বহু পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। ফলে পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি কয়লাবোঝাই ট্রাকে আগুন লাগার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ট্রাকে কয়লা থাকায় আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশের দ্রুত তৎপরতা এবং দমকলের সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। আগুন যাতে আশপাশের ট্রাক কিংবা পার্কিং এলাকার অন্য কোনও অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন লাগার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং দমকল দপ্তর। ট্রাকটির যান্ত্রিক অবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণগুলি পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি ট্রাকে থাকা কয়লা এবং পরিবহণ সংক্রান্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ডুবুর্ডিহি এলাকায় জাতীয় সড়ক ১৯-এর ধারে কয়লাবোঝাই ট্রাকে আচমকা আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। পুলিশের তদন্ত এবং দমকলের রিপোর্ট সামনে এলেই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *