
দুর্গাপুর : শহরের বাইরে ছিলেন বাড়ির মালিক। আর সেই সুযোগেই বন্ধ কোয়ার্টারে হানা দিল চোরের দল। দরজার তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢুকে আলমারি-সহ একাধিক জায়গায় চালানো হয় তল্লাশি। অভিযোগ, বাড়ি থেকে লুট হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা নগদ, সোনার গয়না-সহ বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বি-জোনের কাশীরাম দাস রোড এলাকায়। শুক্রবার সকালে বাড়ি ফিরে চুরির ঘটনা টের পান কোয়ার্টারের মালিক দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্মী মন্টু প্রসাদ। জানা গিয়েছে, পারিবারিক কাজে কয়েকদিনের জন্য শহরের বাইরে গিয়েছিলেন মন্টু প্রসাদ। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা ওই কোয়ার্টারটিকে নিশানা করে বলে অভিযোগ। শুক্রবার সকালে বাড়ি ফিরে প্রথমেই তাঁর চোখে পড়ে মূল দরজার ভাঙা তালা। প্রথমে বিষয়টি দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। এরপর দরজা খুলে ঘরের ভিতরে ঢুকতেই সামনে আসে চুরির আসল ছবি। কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে রয়েছে গোটা কোয়ার্টার। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আলমারির দরজা খোলা, বিভিন্ন সামগ্রী এদিক-ওদিক পড়ে রয়েছে। বাড়ির ভিতরে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানোর চিহ্নও দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং আলমারিতে রাখা সামগ্রী খতিয়ে দেখতেই চুরির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগ, বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা নগদ। শুধু নগদ টাকা নয়, সোনার গয়না এবং আরও বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রীও চুরি হয়েছে বলে দাবি বাড়ির মালিকের। কয়েকদিন বাড়ি বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়েই পরিকল্পিতভাবে এই চুরি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর দেওয়া হয় দুর্গাপুর পুলিশের কাছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। গোটা কোয়ার্টার ঘুরে দেখার পাশাপাশি চুরির পদ্ধতি এবং দুষ্কৃতীদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন তদন্তকারীরা। কীভাবে দুষ্কৃতীরা বাড়ির ভিতরে ঢুকল, মূল দরজার তালা ভাঙার পর তারা কতক্ষণ কোয়ার্টারের ভিতরে ছিল, বাড়ির কোন কোন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং কী কী সামগ্রী নিয়ে পালিয়েছে—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

এই ঘটনায় কতজন দুষ্কৃতী জড়িত ছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের এলাকায় কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সম্ভাব্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। চুরি যাওয়া সামগ্রীর সঠিক তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও কোনও সামগ্রী চুরি যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। বন্ধ বাড়ি বা কোয়ার্টারকে নিশানা করে চুরির ঘটনা নতুন নয়। বাড়ির মালিক কয়েকদিনের জন্য বাইরে গেলে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা চুরি করতে পারে বলে আশঙ্কা থাকে। এই ঘটনায়ও বাড়ির মালিক কয়েকদিন শহরের বাইরে ছিলেন। সেই সময় বাড়িটি কার্যত ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তবে এই চুরির পিছনে আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, নাকি আচমকাই বাড়িটিকে নিশানা করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর মতো আবাসিক এলাকায় এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার কাজের সূত্রে বা পারিবারিক প্রয়োজনে কয়েকদিনের জন্য বাড়ির বাইরে থাকেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবাসিকদের একাংশের দাবি, আবাসিক এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল আরও বাড়ানো দরকার বলেও দাবি উঠেছে। আবাসিকদের আরও বক্তব্য, একটি কোয়ার্টার দিনের পর দিন বন্ধ থাকলে তা নজরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে বাড়ি পর্যবেক্ষণ করে চুরির পরিকল্পনা করতে পারে। তাই কোনও পরিবার দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে আশপাশের প্রতিবেশী এবং নিরাপত্তারক্ষীদের বিষয়টি জানিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকেই। একইসঙ্গে বাড়ির দরজা-জানালার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুরির নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, তা বলা সম্ভব নয়। বাড়ির মালিকের অভিযোগ অনুযায়ী প্রায় ৪ লক্ষ টাকা নগদ, সোনার গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে। কিন্তু মোট কত টাকার সামগ্রী খোয়া গিয়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনও সামনে আসেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে চুরি যাওয়া সামগ্রীর সম্পূর্ণ তালিকা পুলিশকে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বি-জোনের কাশীরাম দাস রোড এলাকায় বন্ধ কোয়ার্টারে এই চুরির ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বাড়ির মালিক শহরের বাইরে থাকার সুযোগে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা নগদ, সোনার গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা—এমনই অভিযোগ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখন প্রশ্ন, এই চুরির পিছনে কারা রয়েছে? বাড়িটি কি আগে থেকেই নজরে ছিল দুষ্কৃতীদের? নাকি বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগেই আচমকা হামলা? চুরি যাওয়া সামগ্রীই বা উদ্ধার হবে কীভাবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।