ব্রিগেডে মোদীর সভার আগে ভূমি পুজো, শুরু প্রস্তুতি !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কলকাতা : আসন্ন ২০২৬ West Bengal Legislative Assembly Election-কে সামনে রেখে ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে একাধিক কর্মসূচি। সেই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিজেপির বহুল আলোচিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’। দলের দাবি, এই যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই পরিবর্তন যাত্রা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ঘুরে শেষ পর্যন্ত এসে মিলিত হবে Brigade Parade Ground-এ। আগামী ১৪ মার্চ সেখানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে একটি বিশাল জনসভা, যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা দেশের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র। ইতিমধ্যেই সেই মহাসভার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এই মহাসভার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় ভূমি পুজো ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু করার আগে হিন্দু ধর্মীয় আচার মেনেই এই কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় পুজোর আচার, আর তার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা Bhupender Yadav। তিনি নিজে পুজোয় অংশগ্রহণ করেন এবং পরে সভাস্থলের বিভিন্ন প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও করেন তিনি। মঞ্চ কোথায় তৈরি হবে, দর্শক আসন কোথায় থাকবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা গেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ব্রিগেড সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক সভা নয়, বরং এটি হবে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার একটি বড় মঞ্চ। ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র মাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে কর্মসূচি চালাচ্ছে দল। বিভিন্ন সভা, মিছিল, জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের মোট ৯টি পৃথক পরিবর্তন যাত্রা বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু হয়েছে। এই যাত্রাগুলি ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। শেষ পর্যন্ত সবকটি যাত্রাই এসে মিলিত হবে ব্রিগেডের মহাসমাবেশে। সেই দিনটিকে ঘিরেই এখন থেকে পরিকল্পনা করছে রাজ্য বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশের সাক্ষী থেকেছে এই ময়দান। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এখানে বড় সমাবেশ করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে বিজেপি। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, পরিবর্তন যাত্রার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শোনা এবং সেই বিষয়গুলি সামনে তুলে ধরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে কর্মীরা মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁদের অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া শুনছেন এবং সেই বার্তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। বিজেপির মতে, এই যাত্রা সংগঠনের কর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করছে। জেলার পর জেলা ঘুরে কর্মীরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছেন, ফলে দলীয় সংগঠনও আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনের আগে সংগঠনকে মজবুত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতৃত্ব। এদিকে ১৪ মার্চের ব্রিগেড সমাবেশকে সফল করতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে সমর্থকদের নিয়ে আসার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন পরিবহণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সেই দিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের রণকৌশল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন তিনি। ফলে এই সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, পরিবর্তন যাত্রা এবং ব্রিগেড সমাবেশের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চান এবং সেই পরিবর্তনের দাবিকেই সামনে রেখে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমশ বাড়ছে তৎপরতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে। তারই মধ্যে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা এবং ব্রিগেডের মহাসমাবেশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা রাজনৈতিক উত্তেজনা। এখন নজর আগামী ১৪ মার্চের দিকে, যখন Brigade Parade Ground-এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সেই বহুল প্রতীক্ষিত জনসভা। সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi কী বার্তা দেন এবং তা রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram