
শিলিগুড়ি : ভুয়ো কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়া এলাকায় বড়সড় পুলিশি অভিযান। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাটিগাড়ার দুটি আইটি পার্কে একযোগে হানা দেয় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশাল বাহিনী। রাতের অন্ধকারে একসঙ্গে দুটি জায়গায় পুলিশের এই অভিযানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অভিযানে দুই মহিলা-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়া এলাকায় অবৈধভাবে কল সেন্টার পরিচালনার অভিযোগ পাওয়ার পর গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে খবর আসে, মাটিগাড়ার দুটি আইটি পার্কে নিয়মবহির্ভূতভাবে কল সেন্টার চালানো হচ্ছে এবং সেখান থেকে সন্দেহজনক পরিষেবার নামে বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপ পরিচালনা করা হতে পারে। সেই খবরের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে নজরদারি শুরু করে পুলিশ। এরপর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্দিষ্ট জায়গাগুলিতে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে মাটিগাড়ার দুটি আইটি পার্কে একযোগে হানা দেন শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের আধিকারিকরা। আচমকা পুলিশের অভিযান শুরু হওয়ায় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। দুটি কল সেন্টারে তল্লাশি চালায় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। অভিযানের সময় বেশ কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং মোবাইল ফোনগুলি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। এই কল সেন্টারগুলিতে ঠিক কী ধরনের কাজ চলছিল, কী পরিষেবার নামে সেগুলি পরিচালনা করা হচ্ছিল এবং সেই পরিষেবার আড়ালে অন্য কোনও বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে দুই মহিলা-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কল সেন্টার দুটির পরিচালন ব্যবস্থা, কর্মীদের ভূমিকা এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসতে পারে, এই কল সেন্টারগুলি কতদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল এবং কীভাবে সেখানে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ওই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হত কি না, কোনও নির্দিষ্ট পরিষেবার নামে ফোন করা হত কি না এবং সেই ফোনালাপের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণার কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না—সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু একটি বা দুটি কল সেন্টারের মধ্যেই এই কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ ছিল কি না, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে, সেটিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রী এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই মোবাইল ফোনগুলিতে থাকা তথ্য, যোগাযোগের তালিকা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য তদন্তে নতুন কোনও সূত্র দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ জানতে চাইছে, এই কল সেন্টার পরিচালনার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন এবং বাইরে থেকে কেউ এই কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করত কি না। পাশাপাশি, আইটি পার্কের ভিতরে কীভাবে এই কল সেন্টারগুলি পরিচালিত হচ্ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা বৈধ নথিপত্র ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। মাটিগাড়া এলাকায় আইটি পার্কে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে অভিযুক্তরা ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই কল সেন্টার চালাচ্ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার পাশাপাশি কল সেন্টারগুলির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং বাজেয়াপ্ত সামগ্রী থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যুক্ত রয়েছে কি না, কিংবা মাটিগাড়া ছাড়াও অন্য কোথাও একই ধরনের কল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এই মধ্যরাতের অভিযানের পর মাটিগাড়া এলাকায় ভুয়ো কল সেন্টার সংক্রান্ত অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে, ওই দুই কল সেন্টারের প্রকৃত কার্যকলাপ কী ছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র সক্রিয় ছিল কি না। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী দিনে আরও অভিযান চালানো হতে পারে। ফলে মাটিগাড়ার এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।